স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যখন আর্জেন্টাইন ক্লাবের কোচ

আর্জেন্টাইন ফুটবলে এক ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ক্লাব মিডল্যান্ড। পুরুষ ও নারীর সমন্বয়ে ভিন্নধর্মী কোচিং প্যানেল গড়েছে দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলা ক্লাবটি। আর এই গল্পের দুই নায়ক-নায়িকা হলেন জোয়াকিন ইতুররিয়া ও সোফিয়া মাতো, যারা মাঠের বাইরে জীবনসঙ্গী আর মাঠের ভেতরে পেশাদার কোচ।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ইনফোবে’ জানিয়েছে, জোয়াকিন ইতুররিয়া প্রধান কোচ হিসেবে দলের ট্যাকটিক্যাল ও কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো সামলান, আর সোফিয়া মাতো কাজ করেন স্পোর্টস কোচ হিসেবে। তাদের এই যৌথ দল পরিচালনা কেবল একটি ফুটবলীয় সাফল্যের গল্পই নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী পুরুষতান্ত্রিক ফুটবল কাঠামোতে বইয়ে দিয়েছে পরিবর্তনের হাওয়া।
সোফিয়া মাতো মূলত বাকি কোচদের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি এবং মাঠের বাইরের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করেন। নিজের কোচিংয়ের ধরন নিয়ে সোফিয়া বলেন, ‘একদল খেলোয়াড় আর একটি দল হয়ে ওঠার মাঝে পার্থক্য আছে। আমরা কেবল খেলোয়াড়দের তৈরি করি না, বরং একটি সুসংগঠিত দল তৈরি করতে কাজ করি, যাদের মাঝে সুসম্পর্ক থাকে এবং তারা একই লক্ষ্যে কাজ করে।’
পেশাদার জীবনের এই দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক কীভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, সে প্রসঙ্গে প্রধান কোচ জোয়াকিন বলেন, ‘আমরা একে অপরের থেকে কাজকে আলাদা করতে পারি না। এটি আমাদের কাজ এবং আমরা এটি দারুণ উপভোগ করি। আমাদের প্রাত্যহিক আলোচনার বড় একটা অংশজুড়েই থাকে ফুটবল।’
তবে পেশাদার গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের জায়গাটি কঠোরভাবে বজায় রাখেন এই জুটি। এ বিষয়ে সোফিয়া বলেন, ‘ছেলেরা আমার এবং ফেদেরিকোর কাছে ব্যক্তিগত কিছু বললে সেটা কখনই আমরা একে অন্যকে জানাই না, যদি একান্তই জরুরি না হয়। যদি কোনো বড় বিষয় হয়, তবে আমরা সবার আগে খেলোয়াড়কেই পরামর্শ দেই, সে যেন নিজে গিয়ে জোয়াকিনের সাথে কথা বলে।’
ফুটবল বিশ্বে নারী কোচ নিয়ে অনেকের নাক উঁচু মানসিকতা থাকলেও মিডল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মাঝে এমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই বলে জানান সোফিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরের চেয়ে বাইরের লোকজনের মাঝেই বেশি চর্চা হয়ে থাকে। তাদের মাঝেই কুসংস্কার বেশি কাজ করে। দলের ছেলেরা এই বিষয়ে মাথা ঘামায় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গন
থেকে শুরু হওয়া তাদের এই পথচলা মোরন কিংবা ডিফেনেসার মতো ক্লাব ঘুরে এখন মিডল্যান্ডে
এসে পূর্ণতা পেয়েছে। সোফিয়ার ক্রীড়া জ্ঞান ও ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রশংসা করে প্রধান কোচ
জোয়াকিন বলেন, ‘পেশাদার কোচ হিসেবে আমি তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। সে
খেলাধুলা খুব ভালো বোঝে, ফুটবলের প্রতি তার অন্ধ ভক্তি রয়েছে এবং সে নিজেও একজন উঁচু
মানের ক্রীড়াবিদ ছিল।’
প্রচলিত ধ্যানধারণাকে পেছনে ফেলে ফুটবল পরিচালনার এই নতুন মডেল এখন আর্জেন্টিনা তথা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারস্পরিক বিশ্বাস, ভিন্নধর্মী দায়িত্ব এবং পেশাদারিত্বের এক চমৎকার মেলবন্ধনে এগিয়ে চলেছে মিডল্যান্ডের এই ব্যতিক্রমী কোচিং জুটি।









