এশিয়া কাপ
সেমিফাইনাল বাধা পার করাই জ্যোতিদের প্রধান লক্ষ্য

ছবি: মোশারফ ভুবন
এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। তার আগে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হয়ে গেল অফিশিয়াল ফটোসেশন ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সংবাদ সম্মেলন। বাংলাদেশ অধিনায়ক আশা করছেন, এশিয়ান গেমসে একটা পদক অর্জন আর এশিয়া কাপে সেমিফাইনাল বাধা পার করা।
বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের পথচলাও কম হলো না। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে থাইল্যান্ডে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু, দেখতে দেখতে ১৯ বছর ছাড়িয়ে ২০ বছরে পৌঁছে গেছে নারী ক্রিকেট। পুরুষদের আগেই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা এশিয়া কাপ জিতেছেন, যেখানে পুরুষ দল একাধিকবার ফাইনাল খেলেও এখনো শিরোপা বঞ্চিত। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট আটকে আছে একই বৃত্তে। সালমা-জাহানারা-রুমানাদের যুগ পেরিয়ে যাওয়ার পর ঘুরেফিরে কিছু ক্রিকেটারদেরই দেখা যায় জাতীয় দলে। ২০২১ থেকে অধিনায়কের দায়িত্বে জ্যোতি, তার নেতৃত্বে ৫টা আইসিসি টুর্নামেন্টে খেলেছে বাংলাদেশ। দুটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি। সবগুলোতেই বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। এশিয়া কাপে ২০২২ সালে নিজেদের মাঠে সেমিফাইনালে উঠতেই ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বেজেছে বিদায়ঘণ্টা। ৭টি বহুজাতিক আসর, সাফল্যের খাতা প্রায় শূন্য। বরং নারী ক্রিকেট সংবাদে এসেছে দলের ভেতরের অন্তঃকলহ, যৌন হয়রানি সহ নানান কারণে। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা এটাও বলেছেন যে নারী ক্রিকেটারদের অনেক আচরণের খবর বাইরে প্রকাশ পেলে দেশে কোনো অভিভাবক মেয়েদের ক্রিকেট খেলতেই পাঠাবেন না!
কিছুদিন আগেই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নারী ক্রিকেটের উন্নয়নের কথা বলেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবুর নারী ক্রিকেট নিয়ে উৎসাহের কথাও জানিয়েছেন। এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়ার আগে মেয়েরা ফ্লাডলাইটে দুটি ম্যাচ খেলেছে, সেটা জানিয়েছেন তিনি। তবে বাবু কিংবা তার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, কেউই দেশে মেয়েদের ভালো প্রস্তুতির জন্য কোনো সিরিজ আয়োজন করতে পারেননি। এর আগের বৈশ্বিক আসরে খেলতে যাওয়ার আগে মেয়েরা প্রস্তুতি নিয়েছিল বয়সভিত্তিক পুরুষ ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলে এবং সেখানেও তারা হেরেছিল বেশিরভাগ ম্যাচে। দলের কোচের দায়িত্বে এখনো সারওয়ার ইমরান, যিনি ছিলেন বাংলাদেশ পুরুষ দলের অভিষেক টেস্টের সময়ের কোচ। গত বছর নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা থাকাকালীন তার মাইনর স্ট্রোক হয়েছিল, ছিলেন হাসপাতালে। আবার তার আগে হাসান তিলকরত্নে যখন কোচ ছিলেন, তখন তিনি দলে বেশ কয়েকজন শ্রীলঙ্কান কোচিং স্টাফ নিয়ে এসেছিলেন এবং তারাই হয়ে উঠেছিলেন দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।
সব মিলিয়ে ভালো নেই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট। অধিনায়ক জ্যোতি বলেছেন, ‘আমরা সর্বশেষ আসরে ভালো খেলতে পারিনি, গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছি। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। সেমিফাইনালটা আমরা পার করতে পারছি না। সেমিফাইনালটা পার করতে পারলে আমরা ফাইনাল খেলতে পারব, তখন শিরোপা জয়ের একটা সম্ভাবনা থাকে। ব্যাটিংটা আগের চেয়ে মোটামুটি ভালো হয়েছে। টপ অর্ডার যদি ভালো করতে পারে তাহলে আমাদের সুযোগ থাকবে ফাইনালে খেলার।’
এশিয়ার দেশগুলোর ভেতর ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশই নারী ক্রিকেটকে পেশাদারী কাঠামোর ভেতর এনেছে। আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট দলই নেই। অন্য দেশগুলো অভিবাসী আর শৌখিন মৌসুমী ক্রিকেটারদের নিয়েই দল গড়ে। এই ক্ষুদ্র গণ্ডির মাঝেই দিনের পর দিন একই ঘূর্ণাবর্তে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট, জ্যোতির এই কথাগুলোও বহুল উচ্চারিত।








