ফ্রান্স-স্পেনের ঐতিহাসিক যত দ্বৈরথ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। আগামীকাল মঙ্গলবার ডলাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। চিরচেনা এই দুই প্রতিপক্ষ যখনই বড় কোনো টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়, তখনই তৈরি হয় নতুন কোনো ইতিহাস। অতীতের বড় টুর্নামেন্টগুলোয় দল দুটির লড়াইয়ের পাতা উল্টালে দেখা যায় হাড্ডাহাড্ডি আর স্নায়ুচাপের উপাখ্যান।
২০২৫ নেশনস লিগের সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের পরাজয়
নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন-ফ্রান্সের সেই ম্যাচটিতে রীতিমতো গোল উৎসব হয়েছিল। ৯ গোলের ম্যাচটি ৫-৪ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল স্পেন। সেই হারের পর দেশম বুঝতে পেরেছিলেন, রক্ষণাত্মক কৌশলের দিন শেষ। এরপর থেকেই শুরু হয় দেশমের নতুন মিশন। ৪-৩-৩ ফরম্যাট থেকে সরে এসে তিনি বেছে নেন আক্রমণাত্মক ৪-২-৩-১ কৌশল। দলে যুক্ত করেন মাইকেল ওলিস, দেজিরে দুয়ের মতো তরুণ তুর্কিদের, যারা ফ্রান্সের পুনর্জন্মের প্রতীক।
ইউরো ২০২৪ সেমিফাইনাল: স্পেনের জয়যাত্রা
দুই দলের সবশেষ দেখা হয়েছিল ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে। র্যান্ডাল কোলো মুয়ানির গোলে ফ্রান্স শুরুতে এগিয়ে গেলেও লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর জাদুকরী গোলে স্পেনের ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। সেই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্পেন শেষ পর্যন্ত ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
২০১২ ইউরো কোয়ার্টার ফাইনাল: আলনসোর জোড়া আঘাত
২০১০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার মিশনে থাকা ফ্রান্সের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেই সময়ের অপরাজেয় স্প্যানিশ দল। জাবি আলনসোর জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয়ী স্পেন সেই টুর্নামেন্টেও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছিল।
২০০৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬: জিদানের ফ্রান্সের দাপট
জার্মান বিশ্বকাপে ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স ছিল মলিন। কিন্তু শেষ ষোলোতে যখন তারা স্পেনের মুখোমুখি হলো, তখন জিদান, অঁরি আর ভিয়েরাদের সামনে স্পেনকে অসহায় মনে হয়েছে। ডেভিভ ভিয়া গোল করে স্পেনকে এগিয়ে নিলেও রিবেরি, ভিয়েরা ও জিদানের গোলে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানের জয় তুলে নেয়। সেই ফ্রান্স পরে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
২০০০ ইউরো কোয়ার্টার ফাইনাল: রাউলের সেই পেনাল্টি মিস
২০০০ সালের ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমার্ধেই সব গোল হয়েছিল। জিদান ও জোর্কায়েফের গোলে ফ্রান্স জেতে ২-১ ব্যবধানে। ম্যাচটি স্পেনের জন্য আক্ষেপ হয়ে আছে। কারণ, শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছিলেন তরুণ রাউল গঞ্জালেস। পরে সেই শিরোপা ফ্রান্সই ঘরে তোলে।
১৯৯৬ ইউরো গ্রুপ পর্ব: ১-১ সমতা
লিডসে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ফ্রান্স ও স্পেনের লড়াই ছিল রক্ষণভাগের পরীক্ষা। জোর্কায়েফ ও হোসে লুইস কামিনেরোর গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি, যা উভয় দলকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।
১৯৮৪ ইউরো ফাইনাল: মিশেল প্লাতিনির মহাকাব্য
ফ্রান্সের প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের সাক্ষী এই ম্যাচ। পার্স দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে প্লাতিনির গোল আর ব্রুনো বেলোনের গোলে ২-০ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে ফ্রান্স জন্ম দিয়েছিল নতুন ইতিহাসের। ওই আসরের ৯ গোল করে ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছেন প্লাতিনি।
মঙ্গলবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নামার আগে কোনো দলকেই ফেবারিট বলার সুযোগ নেই। কারণ, উভয় দলেই রয়েছে দুর্দান্ত খেলোয়াড়। গত ইউরোর স্কোয়াডের অনেকেই এখন বিশ্বকাপে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন। স্পেনের সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মের বিপক্ষে দেখা যাবে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতার লড়াই। ডালাসের মাঠে কি স্পেন তাদের আধিপত্য ধরে রাখবে, নাকি ফ্রান্স ১৯৯৬ বা ২০০৬-এর মতো মধুর প্রতিশোধ নেবে?







