সাজ্জাদ নিজেই ব্লাড ব্যাংক

সদর হাসপাতালে রক্তদাতার পাশে সাজ্জাদ হোসাইন সোহান
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম সদরের টগরাইহাট এলাকার রুনু বেগম (৪০) প্রসববেদনা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সদর হাসপাতালে। চিকিৎসকের পরামর্শ— করাতে হবে অস্ত্রোপচার, প্রয়োজন এবি পজিটিভ রক্তের। এগিয়ে এলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাজ্জাদ হোসাইন সোহান। নিজের বন্ধু এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহযোগিতায় জোগাড় করে দেন দুই ব্যাগ রক্ত। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রুনু বেগমের ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে ছেলেসন্তান।
মাস দু-এক আগে মোমিনুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগমকে (৫০) রক্তশূন্যতা ও কিডনিজনিত সমস্যার করণে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসক তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজ্জাদের কর্মকাণ্ড দেখে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোমিনুল। তিনিও হতাশ হননি। পেয়েছেন মায়ের জন্য রক্ত।
এমন গল্প শুধু রুনু বেগম আর মোমিনুল ইসলামের নয়। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসাইন সোহানের (২৪) চেষ্টায় এ পর্যন্ত জেলা ও জেলার বাইরের এক হাজারের বেশি রোগী রক্ত পেয়েছেন। সাজ্জাদ নিজেও এ পর্যন্ত রক্ত দিয়েছেন ১৬ বার।
তিনি প্রথমবার দেন রক্ত ২০২১ সালে। এর পর থেকেই রক্তদান ও রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়ার কাজ চালিয়ে আসছেন।
সাজ্জাদের মতে, বাংলাদেশে নিরাপদ রক্তের চাহিদা অনেক। রোগীর স্বজনরা যেকোনো কিছুর বিনিময়ে চান রক্ত। আর এই সুযোগ নেয় অসাধু চক্র।
সাজ্জাদ জানালেন, এই চক্র রুখতে আর মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি করে যাচ্ছেন এ কাজ। সাজ্জাদের অভিজ্ঞতা বলছে, জেলায় যেসব রোগীর রক্ত লাগে, তার মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি অস্ত্রোপচারের।
সাজ্জাদের কথা বলছিলেন সেই রুনু বেগম, ‘যেহেতু এটি আমার তৃতীয় সন্তান, আমরা চাচ্ছিলাম নরমাল ডেলিভারি। কিন্তু রক্তক্ষরণের কারণে সিজারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে সময় সাজ্জাদ রক্ত জোগাড় না করে দিলে কী যে হতো, বলা মুশকিল।’
স্বেচ্ছাসেবী রক্তদানকারী প্রতিষ্ঠান বাঁধন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, তারা মাঝেমধ্যে সাজ্জাদের কাছে লোক পাঠান রক্তের জন্য। এই মহৎ কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ।




