আগামীর চোখ
‘নকল’ আমাদের মৌলিক অধিকার
বরাবর
মাননীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
মহোদয়, আমরা চরফ্যাশন সরকারি কলেজের একঝাঁক আইসিটিপীড়িত এবং অত্যন্ত ‘অধিকার-সচেতন’ পরীক্ষার্থী। অতি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত শনিবার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে আমাদের মৌলিক মানবাধিকারের ওপর এক চরম ও নজিরবিহীন কুঠারাঘাত করা হয়েছে।
আমরা অত্যন্ত কষ্ট করে সারা বছর পড়াশোনা না করে, ফেসবুক-ইউটিউবে রিলস দেখে পরীক্ষার হলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছিলাম। দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, শিক্ষকরা অন্তত পরীক্ষার হলে একটু ‘মানবিক’ হবেন। কিন্তু হায়! পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখি পরিস্থিতি পুরো উল্টো। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর আমাদের মনে হয়েছে, আমরা আইসিটি পরীক্ষা দিতে আসিনি, নাসার কোনো গোপন রকেটের কোডিং করতে বসেছি! একটি প্রশ্নও আমাদের চেনা-জানার মধ্যে ছিল না।
এমতাবস্থায়, বিপদে পড়লে মানুষ যেমন একে অন্যকে সাহায্য করে, আমরাও সেই ‘পারস্পরিক সহযোগিতা’ বা ‘দেখাদেখি’র মহান নীতিতে বিশ্বাস রেখে একটু ঘাড় ঘোরানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রের নিষ্ঠুর শিক্ষকরা আমাদের সেই সৎ উদ্দেশ্যকে ‘নকল’ আখ্যা দিয়ে বাধা দেন। এমনকি খাতা কেড়ে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে! এটি কি কোনো সভ্য দেশের লক্ষণ? প্রশ্ন কমন না পড়লে ছাত্ররা একটু নকলের দাবি তুলবে— এটা তো ঐতিহ্য। সেই চিরায়ত ঐতিহ্যে বাধা দিয়ে শিক্ষকরা আমাদের আবেগে চরম আঘাত করেছেন।
শেষমেশ পুলিশ এসে টিয়ার গ্যাসের শেল মেরে আমাদের ‘নকলের দাবি’র আবেগকে অশ্রুজলে রূপান্তর করেছে
ফলে, পরীক্ষা শেষে আমাদের ক্ষোভের আগুন আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার্থে এবং মনের দুঃখ হালকা করতে কলেজের কিছু জানালার কাচ, প্রিন্সিপাল স্যারের রুমের এসি এবং কিছু আসবাবপত্র একটু ‘পরিমার্জন’ ও ‘পুনর্গঠন’ (পড়ুন ভাঙচুর) করেছি। আসলে প্রচণ্ড গরমে আইসিটি প্রশ্নের ধাক্কায় আমাদের মাথা এত গরম হয়ে গিয়েছিল যে, কলেজের এসি দুটো দেখেই আমাদের বেশি রাগ উঠেছিল। তবে শিক্ষকরা যে আমাদের খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ‘মহৎ প্রচেষ্টা’ নস্যাৎ করে দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, শেষমেশ পুলিশ এসে টিয়ার গ্যাসের শেল মেরে আমাদের ‘নকলের দাবি’র আবেগকে অশ্রুজলে রূপান্তর করেছে।
আমাদের আকুল আবেদন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে যেন প্রশ্নপত্র অত্যন্ত সহজ করা হয় অথবা পরীক্ষার হলে ‘নকল করার উন্মুক্ত কোটা’ চালু করা হয়। শিক্ষকরা যেন একটু বন্ধুসুলভভাবে খাতা দেখাদেখির ব্যবস্থা করেন। অন্যথায়, আমাদের এই ভাঙচুর ও ‘অধিকার আদায়ের সংগ্রাম’ অব্যাহত থাকবে।
ইতি
নকলের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট শিক্ষার্থীরা




