জন্মদিনের আগে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

লামিন ইয়ামাল
সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেনের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগের সামনে এক দুর্ভেদ্য রক্ষণ প্রাচীরের লড়াই! আক্রমণে ঢেউ তুলে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে ফ্রান্স। আর স্পেন সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে একটি মাত্র গোল হজম করে। দুই দলের সেমিফাইনাল তাই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ধ্রুপদি লড়াই।
এ লড়াইয়ে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন স্পেনের সময়ের সেরা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর পর ইয়ামাল বলেছেন, ‘এ জয়ে আমি ভীষণ খুশি। আবারও সেমিফাইনালে পৌঁছালাম (২০১০ সালের পর)। আমরা তো এই ম্যাচগুলো খেলতে আর জিততেই এসেছি। এখন একটু বিশ্রাম নেওয়া আর ফ্রান্সের ম্যাচ নিয়ে ভাবার সময়। এখানে সম্ভাবনা দুটি, হয় তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে, না হয় আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। জানি না কী হবে, তবে আমরা মোটেও ভয় পাচ্ছি না।’
বয়স ১৯ বছর হওয়ার আগে লামিন ইয়ামাল খেললেন বিশ্বকাপে রেকর্ড ষষ্ঠ ম্যাচ। এতদিন ১৯৮২ বিশ্বকাপে ১৯ বছরের আগে সর্বোচ্চ পাঁচ ম্যাচ খেলার কীর্তি ছিল নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নরমান হোয়াইটসাইডের
ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ দুই দেখায় জয় পেয়েছে স্পেন। গত ইউরোর সেমিফাইনালে ২-১ গোলে আর ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগেও ৫-৪ ব্যবধানের জয় পায় স্পেন। এজন্যই টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে হারানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়া ইয়ামাল।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ও হতে যাচ্ছেন লামিন ইয়ামাল। আগামীকাল তার ১৯তম জন্মদিন। এর এক দিন পরই খেলবেন সেমিফাইনাল। জয়টাই হবে তার জন্মদিনের সেরা উপহার।
সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলাদের তালিকার শীর্ষে এখনো পেলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৪৪ দিন। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পেলে। ইতালির জুসেপ্পে বার্গোমি ১৯৮২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৮ বছর ১৯৮ দিনে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দিনে ইয়ামালের বয়স হবে ১৯ বছর ১ দিন।
বেলজিয়াম গোল উৎসব করে পৌঁছেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই দলও স্পেনের সঙ্গে আক্রমণাত্মক খেলেনি। তাদের বল পজিশন ছিল মাত্র ৩২.১ শতাংশ। ফ্রান্সকে সেটিই মনে করালেন ইয়ামাল, ‘কোনো দলই আমাদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক খেলেনি। তারা সবাই রক্ষণাত্মক খেলেছে, রক্ষণভাগে দল বেঁধে দাঁড়িয়ে থেকেছে, এমন কৌশল আমাদের কাজটা আরও কঠিন করে তুলেছিল। দিনশেষে আমরাই জিতেছি। আমার মনে হয়, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পেয়ে থাকে, তবে আমাদেরই পাওয়া উচিত। আমরাই তাদের ইউরো থেকে বিদায় করেছিলাম। অবশ্যই আমরা দুটিই অসাধারণ দল। আমার মতে, এ বিশ্বকাপের সেরা দুটি দল হলাম আমরা। দেখা যাক কী হয়, তবে আমরা মোটেও ভয় পাচ্ছি না।’
এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালের গোল শুধু একটি। চোট সারিয়ে ফিরে আসার পর চলতি বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি পুরোপুরি। তবে নিজে গোল করার চেয়ে দলের জয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইয়ামালের কাছে, ‘আমি গোল করতে চেয়েছিলাম, কারণ এটি দলকে সাহায্য করে। কিন্তু আমি মাঠে শুধু গোল করার কথা ভেবে নামি না। যদি বিশ্বকাপ জিতি, মনে হয় না কেউ মনে রাখবে আমি কয়টি গোল করেছি বা মিস করেছি। জিতলে খুশি হব সবাই। ম্যাচসেরার পুরস্কারটা বোনাস।’
সর্বশেষ দুই ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়েছে স্পেন। ২০২৪ সালের ইউরো আর ২০২৫ সালের নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ফরাসিদের হারিয়েছিল স্পেন
গোল না করলেও পর্তুগালের পর বেলজিয়ামের বিপক্ষেও ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়ামাল। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, ‘জানি আমার দৌড়গুলো অনেক প্রতিপক্ষকে টেনে আনে, আর এই সুযোগে কোনো সতীর্থ ফাঁকায় চলে আসতে পারে। আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমরা এখানে জিততে এসেছি। দলের জয়ে আমি যেভাবে সাহায্য করতে পারি— এমনকি বল স্পর্শ না করেও যদি সাহায্য করা যায় সেটাও দারুণ হবে।’
গত ইউরোতেও ইয়ামাল করেছিলেন এক গোল, কিন্তু দল শিরোপা জিতেছিল। ইয়ামাল স্মরণ করিয়ে দিলেন সেটিও, ‘গোল না পাওয়ার ব্যাপারটাই সবার মাথায় জেঁকে বসেছে। আমরা যখন ইউরো জিতেছিলাম, তখনো আমি মাত্র একটি গোল করেছিলাম। এই বিশ্বকাপেও একটি করে ফেলেছি। তাই সবাই নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন!’






