যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। ছবি: এবিসি নিউজ
ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে ইরানে সামরিক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম)।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে ইরানে নতুন দফায় শুরু হয়েছে হামলা। তাদের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই পরিচালিত হচ্ছে এই অভিযান।
এর আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানে শনিবারের হামলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছি।’
এদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড আরও দাবি করেছে, হামলা চালানো হয়েছে ইরানের ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চলছে এখনও। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ছোট আকারের নৌযানেও চালানো হচ্ছে হামলা।
অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি সমঝোতা লঙ্ঘন করে দেশটির পরিবহন অবকাঠামো, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিমান চলাচল স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে এবং বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সমঝোতার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় প্রায় সব শর্ত লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পরিবহন অবকাঠামো, বাণিজ্যিক জাহাজ, পণ্যবাহী নৌযান এবং বিমান চলাচল স্থাপনায় হামলা চালিয়ে গুরুতর যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে তারা।
ইরানের দাবি, উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলবর্তী কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ও সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তেহরান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার উৎসকে তাদের সশস্ত্র বাহিনী বৈধ আত্মরক্ষামূলক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেরও সমালোচনা করেছে তেহরান। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিয়েছেন তিনি।




