কক্সবাজার
বন্যার পানিতে নিভে গেল আরেকটি জীবন

নিহত নিরঞ্জন দাশ। ছবি: সংগৃহীত
সারাদিনের কাজ শেষে ফিরছিলেন বাড়ি। আর কয়েক কিলোমিটার পথ পেরোলেইপৌঁছে যেতেন পরিবারের কাছে। কিন্তু বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক পার হতে গিয়ে হঠাৎ পিছলে যায় পা। মুহূর্তেই পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে যান তিনি। স্থানীয়দের প্রাণপণ চেষ্টা, পরে ফায়ার সার্ভিসের ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযান, কোনোটিই ফিরিয়ে আনতে পারল না তার প্রাণ।
রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বাজার-নাইক্ষ্যংছড়ি সংযোগ সড়কের কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের বিলের মাঝখানে একটি কালভার্ট সংলগ্ন স্থানে ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিহত নিরঞ্জন দাশ (৬৫) রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি পূর্ব দাশপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় ইউপি সদস্য বিমল দাশের বড় ভাই তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি স্টেশনের একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন নিরঞ্জন দাশ। প্রতিদিনের মতো রবিবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণে গর্জনিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে ছিল। ফাক্রিকাটা এলাকার একটি কালভার্টসংলগ্ন স্থানে পানি পার হওয়ার সময় হঠাৎ তার পা পিছলে যায়। মুহূর্তেই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। অনেকেই পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও প্রবল স্রোতের কারণে ব্যর্থ হন। পরে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে খবর দেওয়া হলে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে নিরঞ্জন দাশকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেল রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, উদ্ধার করা হয়েছে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যাওয়া বৃদ্ধের মরদেহ। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মরদেহ।




