শিল্পোদ্যোক্তা নন নুরুল ইসলাম ছিলেন স্বপ্নের নির্মাতা

যমুনা গ্রুপের চেমারম্যান সালমা ইসলাম
দেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে সফল উদ্যোক্তাদের অন্যতম নুরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনন্য কারিগর। সীমিত পরিসর থেকে যাত্রা শুরু করে গড়ে তুলেছিলেন যমুনা গ্রুপ, যা আজ দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একটি। যমুনা গ্রুপ এখন লাখো মানুষের আস্থা, কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার প্রতীক।
শিল্পোদ্যোক্তা নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মানুষকে মূল্য দেওয়ার দর্শন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার যন্ত্র, ভবন বা পুঁজি নয়; তার সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ। প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মীকে তিনি পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখতেন। সেইসঙ্গে এটিও মনে করতেন, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো দেশের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করা। তাই আজীবন সেই চেষ্টাই করে গেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য কখনো ছোটেননি তিনি, বরং তার লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো। ফলে তিনি আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও তার আদর্শ, কর্মদর্শন ও মূল্যবোধই যমুনা গ্রুপের পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আগামী দিনের প্রেরণা।
আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য একই সঙ্গে বেদনার, স্মৃতির এবং অনুপ্রেরণার। আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, দেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, দূরদর্শী ব্যবসায়িক নেতা এবং অসাধারণ মানবিক ব্যক্তিত্ব মরহুম নুরুল ইসলামকে। যিনি বিশ্বাস করতেন— স্বপ্ন দেখতে হয়, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং অদম্য সাহস। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তিনি দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। সীমিত পরিসর থেকে শুরু করে তিনি যে শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি লাখো মানুষের আস্থা, কর্মসংস্থান এবং সম্ভাবনার প্রতীক।
যমুনা গ্রুপের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি কারখানা, প্রতিটি সফলতার গল্পে তার চিন্তা, শ্রম এবং দূরদর্শিতার ছাপ অমলিন হয়ে আছে। তিনি সব সময় বলতেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার মানুষ।’ তাই তিনি সহকর্মীদের শুধু কর্মী হিসেবে নয়, একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখতেন।
আমি জীবনসঙ্গী হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছি তার সংগ্রাম, নিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা। তিনি কখনো ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য কাজ করেননি; তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে উঠলে দেশ এগিয়ে যাবে, মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সৃষ্টি হবে অসংখ্য সম্ভাবনা।
তিনি হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ, তার কর্মদর্শন এবং তার স্বপ্ন আমাদের প্রতিদিন পথ দেখায়। তার শূন্যতা তো কোনোদিন পূরণ হবে না। কিন্তু তার দেখানো পথেই আমরা হেঁটে চলেছি। তার রেখে যাওয়া মূল্যবোধই আমাদের শক্তি, আমাদের সাহস এবং আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা।
যমুনা গ্রুপ আজ যে অবস্থানে রয়েছে, তা ধরে রাখা এবং আরও এগিয়ে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সততা, গুণগত মান, উদ্ভাবন, গ্রাহকের আস্থা এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার যে ভিত্তির ওপর তিনি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, সেই আদর্শ আমরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে ধারণ করব— এ বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমি যমুনা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাদের বলতে চাই— আপনাদের শ্রম, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে নুরুল ইসলামের স্বপ্নকে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করি। এটিই হবে তার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আজকের এই দিনে আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহতাআলা যেন তাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন, সেই দোয়া করি। সেইসঙ্গে আমাদের সবাইকে তার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ, মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করেন।
লেখক: চেয়ারম্যান, যমুনা গ্রুপ




