কথিত ঠিকাদারের প্রতারণার ফাঁদে এমপিসহ এলাকাবাসী

ইট খুলে নেওয়ায় রাস্তার বেহাল দশা। ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের সদরের রশিদপুর ইউনিয়নে সড়ক পাকাকরণের নামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার পুরোনো ইট খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিনব প্রতারণা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকায় প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেননি কেউ। পরে জানা যায়, ওই সড়কের উন্নয়নকাজের কোনো দরপত্রই হয়নি। বর্তমানে রাস্তার সব ইট তুলে নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত মে মাসে ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করবে এবং সাবঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আবদুল মান্নান। পরদিন থেকেই রাস্তার পুরোনো ইট খুলে বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র সরিয়ে নেন মান্নান ও তার লোকজন। কিন্তু পরে আর কোনো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন, পুরো আয়োজনই ছিল ইট চুরির কৌশল।
পুলিশ বলছে, প্রতারক চক্রের মূল হোতা আবদুল মান্নান সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার পর এলাকায় ফিরে নিজেকে ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। পরে একই কৌশলে সদর উপজেলার চাঁদপুর এলাকার আরেকটি সড়কের ইট খুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে গত ১৬ জুন তাকে ও তার সহযোগীদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে।
সড়ক পাকাকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন)। তিনি দাবি করেন, প্রথমদিকে কথিত ঠিকাদারের প্রতারণা তিনি বুঝতে পারেননি। এলাকাবাসীর অনুরোধে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। পরে একই ব্যক্তি আরেকটি সড়কের কাজের কথা জানালে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে দরপত্রের বিষয়ে খোঁজ নেন। কোনো দরপত্র হয়নি জানতে পেরে তার সন্দেহ হয়। এরপর তিনি লোক পাঠিয়ে খোঁজখবর নেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তায় মূল হোতাসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় কাজের বৈধতা নিয়ে তাদের কোনো সন্দেহ হয়নি। পরে রাস্তার সব ইট খুলে নেওয়ার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন তারা।
এদিকে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিষয়টি জানতেন না তিনি। পরে সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন যে ওই সড়কের কোনো অনুমোদিত প্রকল্প বা কাজ নেই। এরপর প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, ওই সড়কের উন্নয়নকাজের কোনো দরপত্র হয়নি। ইট তুলে নেওয়ায় স্থানীয় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত পুরো সড়কে একটি ইটও অবশিষ্ট নেই। বর্ষার পানিতে কাদায় পরিণত হয়েছে রাস্তা। মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।




