ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমার জন্য বিশেষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কেপ ভার্দের পর মিসর হার্ডল পেরোতে নিজে গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাতে তার গোল লাগেনি। তবে গোলের শুরুটা হয়েছিল তার অ্যাসিস্টে এবং ম্যাক আলিস্টারের গোলে। অতিরিক্ত সময়ে আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে আর্জেন্টিনার এই জয়ে ভীষণ খুশি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সতীর্থদের নিয়ে প্রশংসায় তিনি পঞ্চমুখ হওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত দৈনিক ‘ওলে’র সঙ্গে। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের কথাগুলোই তুলে ধরা হয়েছে
প্রশ্ন: আগের দুটি ম্যাচেও কষ্ট হয়েছিল। এবার অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ম্যাচটা জিততে হয়েছে..
মেসি: এই জয়ে আমি খুবই আনন্দিত, এটি ছিল কঠোর লড়াই করে পাওয়া এক জয়। আমরা জানতাম সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনায় ঠাসা হবে। সামনের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, তার আগে খুব চাপ না নিয়ে এই ধাপটি পার করা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন: জুলিয়ান কি আজ মাঠে আপনার রূপ ধারণ করেছিলেন?
মেসি: সে একটা অসাধারণ গোল করেছে, তবে এটা প্রথমবার নয়। এর আগেও সে এমন কয়েকটি গোল করেছে। সত্যি বলতে, ওটা দারুণ একটা গোল ছিল; তার শট নেওয়ার ক্ষমতা খুব ভালো এবং আজ (রবিবার) সেটিই দেখিয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদেও সে দীর্ঘদিন ধরে এটা দেখিয়ে আসছে, এ মৌসুমেও সেখানে বেশ কয়েকটি একই রকম গোল করেছে। আমি ম্যাচের ফলাফলে খুবই সন্তুষ্ট। কারণ সে গোল পেয়েছে এবং লাউতারোও গোল করেছে। দলের স্বার্থে এই দুজনের গোলের খুব দরকার ছিল। তাই আমি খুব আনন্দিত।
প্রশ্ন: এই দলটি আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে...
মেসি: কারণ এই দলটি লড়াই করতে জানে এবং কখনো লড়াই থামায় না। তারা কখনো সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকে না, সবসময় আরও বেশি কিছু চায় এবং সেরাদের বিপক্ষে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই দল যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া, দুটি কোপা আমেরিকা জেতা এবং আবারও বিশ্বকাপে সেরা জায়গা করে নেওয়া, সত্যি অসাধারণ। আমাদের এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হবে। দেশের মানুষ যেভাবে এটা উদযাপন করছে, আমরাও তা অনুভব করছি। আবারও মাঠে নামব এবং বরাবরের মতো একটি শক্তিশালী ও দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে লড়াই করব।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আপনি তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন। এটি আরেকটি রেকর্ড, যা আপনি কখনো তাড়া করেননি, কিন্তু নিজে থেকেই হয়ে গেল...
মেসি: এখানে আবারও আসতে পারা, আর্জেন্টিনার আবারও সেমিফাইনালে ওঠা— সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি। এই দল ইতিহাস গড়তে কখনো ক্লান্ত হয় না, তারা সবসময় আরও বেশি কিছু চায় এবং আজ আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। আমরা পরবর্তী ম্যাচেও আমাদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: এবারই প্রথম আপনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন। আপনার কাছে এর গুরুত্ব কতখানি?
মেসি: এটি একটি বিশেষ ম্যাচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমি প্রথম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। ইংল্যান্ড ছাড়া বিশ্বের সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছি। ম্যাচটি বিশেষ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, ওরা খুবই শক্তিশালী এবং দুর্দান্ত একটি দল। এ ধরনের দলের বিপক্ষে খেলতে সবসময়ই ভালো লাগে। তার ওপর এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তাই এখন আমাদের কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া দরকার, কারণ অনেক ধকল গেছে এবং দলের ওপর একটা প্রভাব পড়েছে। আমরা চেষ্টা করব শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে নামতে, যেন লড়াইটা ঠিকমতো করতে পারি।




