ইপিবি ভবনে লিফট কেনায় জটিলতা
- সর্বনিম্ন দরদাতার দরই ১৫১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি
- টাকার হেরফেরে কাজ দেওয়া যাচ্ছে না

ইপিবি ভবন। ছবি: সংগৃহীত
লিফট জটিলতায় আটকে আছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) নিজস্ব ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি। অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও এক্ষেত্রে এখনো রয়েছে পিছিয়ে। কেননা সর্বনিম্ন দরদাতার দেওয়া দরই ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখ করা দরের চেয়ে ১৫১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। পরে চলমান দরপত্র বাতিল করে নতুনভাবে প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২২ জুন হয়েছে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান। এদিকে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইপিবির সচিব মো. বজলুর রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, এরই মধ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। তবে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘লিফট কেনার বিষয়টি আমি বলতে পারব না।’
সূত্র জানায়, পিএসসি সভায় একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানালেন, ১ হাজার ২৫০ কেজি ১৪ প্যাসেঞ্জার লিফট ৫টি, ১২৫০ কেজি ১৪ স্টপ বেড লিফট ২টি, ১০০০ কেজি ১২ স্টপ ফায়ার লিফট ১টিসহ ৮টি লিফট কেনার সংস্থান রয়েছে। এজন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয় রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কিন্তু তাদের মূল্যায়িত দর ১৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর অপেক্ষা ১৫১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এ কারণে নিম্ন দরদাতা হওয়ার পরও কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এটি বাতিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য লিফটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লিফট প্যাকেজের পুনঃদরপত্র আহ্বান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সভার সভাপতি ও বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো প্যাকেজের প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে দরপত্রে উদ্ধৃত সর্বনিম্ন দর অনেক বেশি হলে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে ক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, সভায় জানানো হয়, ২৮২ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২২ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ ছিল। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভূমি উন্নয়ন, অফিস ভবন, সীমানাপ্রাচীর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ল্যান্ডস্কেপিং ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এ ছাড়া, ভবন অটোমেশন সিস্টেম, বেজমেন্টের জন্য বায়ু নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং অগ্নিনিরোধক, প্রতিরোধ ব্যবস্থাকরণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
প্রকল্প পরিচালক মাহমুদুল হাসান পিএসসি সভায় জানালেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শের-ই-বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার ই-ব্লকের ৫/বি নম্বর ০১ একরের প্লটে ১৫-তলার (৩টি বেজমেন্টসহ) আধুনিক সুবিধাসহ প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি হলো, নির্মাণাধীন ভবনের ৩টি বেজমেন্টসহ ১১-তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। ১২-তলার ছাদের ঢালাই চলতি মাসের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। ফায়ার ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম স্থাপনকাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশ। ফোর্স ভেন্টিলেশন সিস্টেম (তিনটি বেজমেন্টের জন্য) ও পাম্প মোটর স্থাপনকাজ ৭০ শতাংশ এবং ১৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন ২টি ও ৩০০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর ২টি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া, সিসিটিভি সিস্টেম, আইপি পিএবিএক্স সিস্টেম, স্পেশাল লাইট ফিটিংস, গার্ডেন লাইন, সোলার সিস্টেম, পিএ সিস্টেম ও ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম এবং মার্জ প্রোটেকশন সিস্টেম স্থাপনকাজ হয়েছে ১০ শতাংশ। বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিএমএস) ডিজাইন ও স্থাপন এবং নেটওয়ার্ক সিস্টেম, এলইডি সাইন বোর্ড স্থাপনকাজ ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য কাজ চলমান।
তিনি আরও জানালেন, শুরু থেকে গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ৯৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, বা আর্থিক অগ্রগতি ৬০ শতাংশ।




