বিশ্বকাপ বদলে দেবে ব্যালন ডি’অর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যালন ডি’অর উঠছে কার হাতে? বিশ্বকাপের আগে সম্ভাবনায় এগিয়ে ছিলেন উসমান দেম্বেলে ও হ্যারি কেইন। দেম্বেলে এবারও জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেই সঙ্গে আছে ফ্রেঞ্চ লিগের শিরোপা। হ্যারি কেইন গোলবন্যা বইয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ। ৫১ ম্যাচে করেছিলেন ৬১ গোল। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন এখন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পেরাও।
বিশ্বকাপের বছরে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স। এবারের বিশ্বকাপও বদলে দিচ্ছে ব্যালন ডি’অরের অঙ্ক। সম্ভাবনায় ধারেকাছেও না থাকা লিওনেল মেসি জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর হয়ে উঠেছেন অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদে কোনো শিরোপা না জেতা কিলিয়ান এমবাপ্পে আর জুড বেলিংহামও স্বপ্ন দেখতে পারেন ট্রফিটার। এজন্য বিশ্বকাপ জিততে হবে তাদের দলকে।
এমনিতে ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয় সাংবাদিকদের ভোটে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আর দলীয় সাফল্য দেখেই দেওয়া হয় ভোট। তবে অনুমান করতে পারেন যে কেউ। ‘বেটফেয়ার’ করেছে সেটিই। তাদের তথ্য নিয়ে স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্ভাব্য ফেভারিটদের নাম। এক মাস আগেও ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অর থেকে আলোকবর্ষ দূরে থাকা লিওনেল মেসি এখন অন্যতম ফেভারিট। বিশ্বকাপের আগে মেসির ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ০.৯৭ শতাংশ।
কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বেটফেয়ার জনাচ্ছে, তার সম্ভাবনা বেড়ে এখন ১০.৩৪ শতাংশ। জেতার সম্ভাবনা বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ বা ৯৬৬ শতাংশ। কেননা, মেসি জাদুতেই আর্জেন্টিনা পৌঁছেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ২ গোলে পিছিয়ে থাকলেও শেষ ১৩ মিনিটে মেসি জাদুতে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩-২ ব্যবধানে। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ ২১ গোল তার। মেসির অ্যাসিস্টও রেকর্ড ৯টি। তাই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ব্যালন ডি’অর পেতে পারেন মেসিও। একইভাবে তিনি মর্যাদার এই পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০২৩ সালে। আগের বছর ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতায় পুরস্কারটা উঠেছিল তার হাতে।
২০০২ বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও আর ২০০৬ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির ফাবিও ক্যানাভারো জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। সেই সুযোগ আছে কিলিয়ান এমবাপ্পে আর জুড বেলিংহামেরও। এমবাপ্পের সতীর্থ উসমান দেম্বেলেও বিশ্বকাপ জিতলে পেতে পারেন ট্রফিটা। তবে রিয়ালের হয়ে কোনো শিরোপা না জেতা এমবাপ্পের সম্ভাবনা বেড়েছে ৩৪৩ শতাংশ।
এমবাপ্পের সম্ভাবনা বিশ্বকাপের আগে ছিল ৪.৩৬ শতাংশ। বিশ্বকাপে ৭ গোল করায় সেটি বেড়ে এখন ১৯.৩০ শতাংশ! সম্ভাবনা বাড়ার হার ৩৪৩ শতাংশ। হ্যারি কেইনের পর ‘বেটফেয়ারের’ হিসাবে তিনিই এখন দ্বিতীয় ফেভারিট। সবচেয়ে এগিয়ে থাকা কেইনের সম্ভাবনা ২২.২৭ শতাংশ। এই দুজনের যৌথ সম্ভাবনাই এখন ৪১ শতাংশের বেশি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ২০.১১ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে ছিলেন কেইন। বিশ্বকাপে ৬ গোল করে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন তিনি। জাতীয় দলে তার সতীর্থ জুড বেলিংহামের সম্ভাবনা ছিল ০.৬৪ শতাংশ। সেটি এখন ৪.২৬ শতাংশ হয়েছে। তার উত্থান ৫৬৬ শতাংশ! বিশ্বকাপে ৭ গোল করা নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের সম্ভাবনা ১.৯২ থেকে এখন ৬.৫৯ শতাংশ।
বিশ্বকাপের আগে উসমান দেম্বেলের সম্ভাবনা ছিল ১৪.৫২ শতাংশ। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। তারপরও তার জয়ের সম্ভাবনা কমে এখন ১২.০৬ শতাংশ। এমবাপ্পের প্রভাবেই আসলে পিছিয়ে পড়েছেন দেম্বেলে। তবে সেটি বাড়তেও পারে হুহু করে। এজন্য কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল আর ফাইনালে আলো ছড়াতে হবে দেম্বেলেকে। তাহলেই সম্ভব টানা দ্বিতীয়বার তার ব্যালন ডি’অর জেতা।




