হামলার তৃতীয় দিন
ইরানের সামরিক স্থাপনায় একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানের কয়েকটি স্থানে নতুন করে ঘটেছে বিস্ফোরণ। ছবি: এএফপি
দক্ষিণ ইরানের কোনারাক ও বুশেহর অঞ্চলে নতুন করে ঘটেছে বিস্ফোরণ। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, কোনারাকের নৌবাহিনীর সামরিক অঞ্চলে যুদ্ধবিমান থেকে দুই দফায় চালানো হয়েছে হামলা। অন্যদিকে বুশেহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক সদরদপ্তরেও চলেছে বলে দাবি তাদের। তবে এসব দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানে কোনো হামলা চালানো হয়নি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কোনারাকের গভর্নর মোহাম্মদ ইউনুস হাক্কানির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বলছে, নৌবাহিনীর সামরিক এলাকায় শোনা গেছে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ। ‘এই এলাকা শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান থেকে দুই ধাপে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। হামলার প্রকৃতি ও বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে বুশেহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়ে প্রদেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপগভর্নর এহসান জাহানিয়ান আইআরএনএকে বলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার ফলেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তার দাবি, বুশেহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি সামরিক সদরদপ্তরে আঘাত হেনেছে একটি শক্তিশালী বোমা।
অন্যদিকে আল জাজিরাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভেতরে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গেও এই বক্তব্যের মিল রয়েছে।
তবে ইরানে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের কারণ কী হতে পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো মূল্যায়ন জানায়নি কেউ।
এদিকে ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহর ও চোগহাদাকসহ কয়েকটি এলাকায় শোনা গেছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ।
এ ছাড়াও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি, জর্ডানের আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।
ইরানের মিজান বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সি বলছে, উত্তর ইরানের একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেতুটি ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কোনো সামরিক ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মন্তব্য করেন, প্রয়োজন হলে আরও বেশি শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত ইসরায়েল।




