’৮৬ ফেরাতে চায় বেলজিয়াম স্পেনের স্বপ্নে ২০১০

স্প্যানিশ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল
মঞ্চটা একই, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল। ৪০ বছর আগের মতো এবারও বিশ্বকাপের স্বাগতিক মেক্সিকো। স্পেন-বেলজিয়ামের শেষ আটের আজকের ম্যাচটা অবশ্য মেক্সিকোয় নয়, গড়াবে আরও উত্তরে লস অ্যাঞ্জেলেসে। ভেন্যু বদলালেও মানসিকতা আর ফল বদলাতে চাইবে না বেলজিয়াম। ১৯৮৬ সালের মতো আজও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে হারাতে মরিয়া। অথচ স্পেন চাইছে ২০১০ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফেরাতে।
’৮৬-র বিশ্বকাপে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। স্পেনের দ্বিতীয় শটটা মিস করেন এলয় হোসে পেরেনদেস। বেলজিয়ামের পাঁচ শটের পাঁচটিই জড়ায় জালে। ৫-৪-এ জিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পা রাখে বেলজিয়াম।
এরপর হ্যাজার্ড, ডি ব্রুইনা, কোর্তোয়া, লুকাকুদের ‘সোনালি প্রজন্ম’ ২০১৮ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার বেলজিয়ামকে নিয়ে যায় সেমিফাইনালে। তৃতীয়বার শেষ চারে খেলতে আজ ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারাতে হবে বেলজিয়ামকে। তারকা গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার কণ্ঠে ঝরল জয়ের আত্মবিশ্বাস, ‘বড় সব টুর্নামেন্টে বিস্ময়কর কিছু ঘটে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারানোটাও হবে বিস্ময়ের। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমাদেরও স্পেনের মতো মানসম্পন্ন একটা দল আছে।’
তিকিতাকা ফুটবলে পাসের ফুল ফুটিয়ে স্পেন পৌঁছেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। টুর্নামেন্টে এখনো কোনো গোল হজম করেনি তারা। ইউরোপিয়ান দলের সঙ্গেও হারেনি দীর্ঘদিন। দলের সেরা তারকা লামিন ইয়ামাল অবশ্য চোটের ধকল কাটিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি শতভাগ। নিজের সেরাটা কি বেলজিয়ামের জন্য তুলে রেখেছেন ইয়ামাল?
মুন্দো দেপোর্তোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেছেন, ‘সেমিফাইনাল বা ফাইনাল যত কাছে আসে, আমি তত ভালো খেলি। কঠিন ম্যাচগুলো উপভোগ করি। গ্রুপ পর্বে আমি কখনোই সেরা খেলোয়াড় ছিলাম না, এটা নিয়ে চিন্তিতও নই। আশা করি, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটা পুরো দলের জন্যই দারুণ কিছু হবে।’
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারানোয় আত্মবিশ্বাসের পারদ অনেক ওপরে বলেই জানিয়েছেন ইয়ামাল, ‘আমার কাছে পর্তুগাল এ বিশ্বকাপের সেরা তিনটি দলের একটি ছিল। তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করতে পারাটা বেলজিয়াম ম্যাচের আগে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে আমরা জানি, প্রতিটি ম্যাচই আলাদা। বিশ্বকাপে সবকিছুই খুব হাড্ডাহাড্ডি হয়।’
বেলজিয়ামের এবারের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ঢিমেতালে। গ্রুপে টানা দুটি ড্রয়ের পর নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ছন্দে ফেরে তারা। শেষ ৩২-এ ইউরি টিলেমান্সের শেষদিকের জোড়া গোলে ৩-২-এ হারায় সেনেগালকে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প-লাল কার্ড বিতর্ক ছাপিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১-এ গুঁড়িয়ে টিকিট পায় কোয়ার্টার ফাইনালের।
সব মিলিয়ে বেলজিয়ামের গোল ১৩টি। গোলমেশিন হয়ে ওঠা এই দলের সামনে কি ভাঙবে স্পেনের প্রতিরোধ? কেননা, তারা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোলই হজম করেনি। গোলকিপার উনাই সিমন টানা দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে গোল খাননি ৬০০ মিনিটের বেশি।
পাসের ফুল ফোটালেও স্পেন অবশ্য গোল উৎসব করতে পারেনি। সব মিলিয়ে তাদের গোল ৯টি। এর ৪টি গ্রুপ পর্ব সৌদি আরবের বিপক্ষে আর ৩টি অস্ট্রিয়ার সঙ্গে শেষ ৩২-এ। গ্রুপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে ধাক্কা খেয়েছিল তারা। আবার পর্তুগালের সঙ্গে কোনোরকমে জিতেছে মিকেল মেরিনোর শেষ বেলার গোলে। বেলজিয়ামকে হারানোটা তাই বড় চ্যালেঞ্জই হবে স্পেনের।
বেলজিয়ামকে ভোগাতে পারে মাঝমাঠের প্রাণ আমাদু ওনানার এসিএল ইনজুরি। তিনি ছিটকে যাওয়ায় মাঝমাঠে ভারসাম্য কমবে বেলজিয়ামের। কেভিন ডি ব্রুইনা শুরু থেকে খেলতে পারায় অবশ্য স্বস্তিতে থাকবেন কোচ রুডি গার্সিয়া। স্পেনের চোট সমস্যা নেই। উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস চোট কাটিয়ে ফিরতে তৈরি। রাইটব্যাক পজিশনে পেদ্রো পোরো নাকি মার্কোস ইয়োরেন্তে— এ নিয়ে মধুর সমস্যায় কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
এ সমস্যা কাটিয়ে সেরা দল নিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার সেমিফাইনাল
খেলতে মুখিয়ে স্পেন।




