বিশ্বকাপ
এমবাপ্পের পেনাল্টি কৌশল কি ভুল?

মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের চোখধাঁধানো কার্লিং শট আর উসমান দেম্বেলের গোলে ফরাসিদের এই মহোৎসবের রাতে অনেকেই হয়তো ভুলে যাবেন প্রথমার্ধে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসের ঘটনাটি। ম্যাচটি যখন গোলশূন্য, তখন নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে এমবাপ্পের নেওয়া দুর্বল শটটি অনায়াসে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
এমবাপ্পের মতো বিশ্বসেরা তারকার এই পেনাল্টি মিস ফুটবল বিশ্বে নতুন করে একটি পুরোনো বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। পেনাল্টি নেওয়ার সময় এই ‘স্টাটার’ বা থেমে-কেটে শট নেওয়ার কৌশলটি কি এবার বন্ধ করার সময় এসেছে?
থেমে থেমে পেনাল্টি কিক নেওয়া অনেকে ফুটবলবোদ্ধার কাছেই বিরক্তিকর। ফিফার নিয়মানুযায়ী, কিক নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সম্পূর্ণ থেমে না গিয়ে রান-আপের মাঝে গতি পরিবর্তন বা নানা কারিকুরি দেখানোর অনুমতি খেলোয়াড়দের রয়েছে। পেলে, হুগো সানচেজ থেকে শুরু করে ব্রুনো গুইমারেস বা হ্যারি কেইনরা এই কৌশল ব্যবহার করেছেন।তবে এবারের বিশ্বকাপে এই কৌশলের কার্যকারিতা বড় প্রশ্নের মুখে। চলতি বিশ্বকাপে (টাইব্রেকারসহ) নেওয়া ২৬টি ‘স্টাটার’ পেনাল্টির মধ্যে ১১টিই মিস হয়েছে। অর্থাৎ সফলতার হার মাত্র ৫৭ শতাংশ! অন্যদিকে, কোনোরকম ছলাকলা ছাড়া সরাসরি নেওয়া ৩৫টি ‘নন-স্টাটার’ পেনাল্টির মধ্যে ২৪টিই জালে জড়িয়েছে, যার সফলতার হার ৬৮ শতাংশ।
নরওয়ের হোটেল বদল
১০ জুলাই ২০২৬
এবারের বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করা যেন এক কঠিন যুদ্ধ। টাইব্রেকার বাদে পেনাল্টি মিসের হার ৩০ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর টাইব্রেকার মেলালে এই মিসের হার গিয়ে ঠেকছে ৩৫ শতাংশে, যা গত ৬০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে বলেন, 'পেনাল্টি নিয়ে এখন এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। গোলরক্ষকরা এখন অনেক বেশি দীর্ঘদেহী ও অ্যাথলেটিক। তারা যদি সঠিক দিক অনুমান করতে পারে, তবে নিখুঁত শটও সেভ হয়ে যায়। তাই গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করতেই এই স্টাটার কৌশল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গোলরক্ষকদের কাছেও এখন সব ডাটা আছে। কে কোন দিকে শট নিতে পছন্দ করে, তা তারা আগে থেকেই জানে।'
ফ্রান্সের জার্সিতে এটি এমবাপ্পের মাত্র দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। ১৬টির মধ্যে ১৪টিতেই তিনি সফল হয়েছেন। তবে তার সামনে এবার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইয়াসিন বুনো, যিনি বিশ্বকাপে ফেস করা ৯টি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র ২টিতে গোল খেয়েছেন।এমবাপ্পের এই পেনাল্টি মিসের পেছনে মাঠের ভেতরের দীর্ঘ অপেক্ষাকেও দায়ী করছেন অনেকে। ফাউল হওয়ার পর ভিএআর চেকের কারণে রেফারি বাঁশি বাজানো পর্যন্ত ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড সময় পার হয়ে যায়। ফরাসি ফুটবল সাংবাদিক জুলিয়েন লরেন্স বলেন, 'এই দীর্ঘ অপেক্ষা এমবাপ্পের চেনা রুটিন ভেঙে দিয়েছিল। পেনাল্টিতে রুটিন ঠিক রাখা খুব জরুরি। এত লম্বা সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকাটা তাকে বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে শটটি অত্যন্ত দুর্বল ও সহজ ছিল।'
সাবেক আইরিশ মিডফিল্ডার রয় কিন এই দীর্ঘ অপেক্ষার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'একজন খেলোয়াড়কে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য তিন মিনিটের বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখা অন্যায়। চাপ কাটাতে সময় হচ্ছে স্ট্রাইকারদের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই দীর্ঘ বিরতি আসলে গোলরক্ষককেই সুবিধা পাইয়ে দেয়।'ইয়ান রাইটের কণ্ঠেও একই সুর, 'যত বেশি অপেক্ষা করতে হবে, নিজের সিদ্ধান্তের ওপর সন্দেহ তত বেশি বাড়বে।'
মাঠের পারফরম্যান্সে ফ্রান্স বিশ্বজয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেওএমবাপ্পের এই মিস ১২ গজ দূর থেকে গোল করার আধুনিক কৌশল নিয়ে দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।








