ফ্রান্সের ম্যাচে সব আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়ে বিতর্ক

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে রেফারিং নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচ পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টাইন রেফারিং দল নিয়োগ দিয়েছে ফিফা। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সাম্প্রতিক তিক্ত ইতিহাস এবং শিরোপা লড়াইয়ে দুই দলের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ফিফা নিশ্চিত করেছে, বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন ৪৪ বছর বয়সী রেফারি ফাকুন্দো তেয়ো এবং তার দল। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচ সম্পূর্ণভাবে একই দেশের কর্মকর্তাদের হাতে পরিচালিত হতে যাচ্ছে। তেয়োকে সহায়তা করবেন সহকারী রেফারি হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাদে, চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন দারিও এরেরা।
এই সম্পূর্ণ আর্জেন্টাইন রেফারিং এর ছোঁয়া লেগেছে টেকনিক্যাল এলাকাতেও। রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকছেন ক্রিস্তিয়ান নাভারো। ফিফা দাবি করেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত সব রেফারি যোগ্যতার ভিত্তিতে ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তবে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দেশ থেকে একই জাতীয়তার রেফারি নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত এরইমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই নিয়োগ নিয়ে যেকোনো উদ্বেগ প্রকাশ্যে এড়িয়ে গেছে ফ্রান্স। রেফারির জাতীয়তা নিয়ে না ভেবে মরক্কোর বিপক্ষে কৌশলগত চ্যালেঞ্জেই মনোযোগ ধরে রাখতে চায় দলটি। বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডার দায়ত উপামেকানো দ্রুতই রেফারিং দল নিয়ে ওঠা আলোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘রেফারি কে হবেন, সেটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাব না। আমরা আগেও কখনো এমনটা করিনি, আমরা মরক্কোর দিকেই মনোযোগ দেব।‘
ফ্রান্সের তৃতীয় পছন্দের গোলরক্ষক রবিন রিসেরও এই আলোচনায় নিজের মতামত দিয়েছেন। ম্যাচের আগে সতীর্থদের যেকোনো ধরনের অহেতুক শঙ্কা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, ‘গত ফাইনালের পর থেকে কিছুটা তিক্ততা রয়েই গেছে, তবে সেটাও খেলারই অংশ। এই রেফারিরা যদি এখানে থাকেন, তার মানে তাঁরা এই প্রতিযোগিতার মানের যোগ্য।’
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, যেখানে নাটকীয় টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে।




