বিশ্বকাপে দেশি কোচেই বাজিমাত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনোই বিদেশি কোচ নিয়ে শিরোপা জিততে পারেনি কেউ। এবারও টুর্নামেন্টের শেষভাগে এসে দেখা যাচ্ছে, স্বদেশি কোচ নিয়ে টিকে থাকা দলের সংখ্যাই বেশি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দেশের ছয়টিতেই আছে নিজ দেশের কোচ।
এবারের আসরে ৪৮ দলের মধ্যে ২৭ দলের দায়িত্বে ছিলেন অন্য দেশে জন্মগ্রহণ করা কোচ। এমন দৃশ্য বিশ্বকাপের মঞ্চে বিরলই বলা চলে। অনেকেই ধারণা করছিলেন, আগের সব রেকর্ড ভেঙে এবার হয়তো বিদেশি কোচদেরই জয়জয়কার দেখা যাবে।
তবে নকআউট পর্ব যত এগিয়েছে, এই দৃশ্যপট ততই পাল্টে গেছে। শেষ আটে ওঠা ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের ডাগআউটেই আছেন বিদেশি কোচ। ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ থমাস টুখেল ও বেলজিয়ামের ফরাসি কোচ রুডি গার্সিয়া এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন নতুন রেকর্ডের আশা। বাকি ছয় দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন লিওনেল স্কালোনি (আর্জেন্টিনা), দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স), মুরাত ইয়াকিন (সুইজারল্যান্ড), স্টেল সোলবাকেন (নরওয়ে), লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন) ও মোহাম্মদ ওয়াহবি (মরক্কো)।
ইএসপিএনের ধারাভাষ্যকার জিয়ান ওডি বলেছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে ছয় দেশীয় কোচই প্রমাণ করেন যে, বিদেশি কোচ মানেই নিশ্চিত সাফল্য নয়। তবে যে দেশীয় কোচরা জাতীয় দলকে খুব ভালোভাবে চেনেন, তাদের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা থাকে।
ওডি বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটি ইতিবাচক। কারণ দেশি কোচ হলে আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে ওই দেশের সমর্থকরা কী চায়, সংবাদমাধ্যম কী দাবি করবে, কীভাবে এটি আপনার কাজে সাহায্য বা বাধা দিতে পারে এবং আপনি কীভাবে যোগাযোগ করবেন। আপনি যদি সংস্কৃতিটা জানেন, তবে প্রতিবার কথা বলার সময় আপনি আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন। সব খেলোয়াড়ের অতীত আরও ভালোভাবে জানতেও সাহায্য করে।’
ওডির মতে, বিদেশি কোচদের জন্য দেশের জনগণের নির্দিষ্ট কিছু চাপ সামলানো বেশি কঠিন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি টানেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রসঙ্গ। ইতালীয় কোচ আনচেলত্তি কীভাবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সমর্থকদের জোরালো দাবির কাছে নতিস্বীকার করেছেন, সেটিই তুলে ধরেন ওডি।




