গোধূলি বেলায় একই মঞ্চে দেখা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যুবপর্যায়ে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার ১৫ বছর পর আজ ফের দেখা হয়ে যাচ্ছে দুই বিখ্যাত নম্বর ১০-এর। লিওনেল মেসি ১০ নম্বর জার্সিতে বিশ্বের সবচেয়ে সফলদের অন্যতম। আর মোহাম্মদ সালাহ আফ্রিকার ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন। দুই তারকার আজ আটলান্টায় দেখা হয়ে যাবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে।
২০১১ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী মিসরীয় উইঙ্গার সালাহ। তবে ম্যাচটি তার দল হেরে যায় এবং কায়রোর বাইরে সালাহ নামের সেই ছেলেটি তখন অলক্ষ্যেই থেকে যান। ততদিনে মেসির জগৎজোড়া খ্যাতি। দেড় দশক পর দৃশ্যপট বদলেছে। মেসির মতো আজ পুরো ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে সালাহর দিকেও। আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ছাপিয়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে মেসি বনাম সালাহ।
সেই ম্যাচের পর এই দুই তারকার ক্লাব ফুটবলে আরও দুবার দেখা হয়েছিল। দুবারই চ্যাম্পিয়নস লিগে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মেসির বার্সেলোনা ও সালাহর লিভারপুল ১-১ ড্র করে। এরপর ২০১৮-২৯ আসরের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ন্যু ক্যাম্পে সালাহদের মেসিরা হারায় ৩-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি চোটের কারণে খেলেননি সালাহ। তবে অ্যানফিল্ডের বেঞ্চ থেকে নিজের দলকে দেখেছেন অবিশ্বাস্য ৪-০ গোলের জয়ে মেসির বার্সেলোনার হৃদয় ভেঙে দিতে।
এই দুই মহাতারকার শুরুর গল্পে একটি যোগসূত্র আছে। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছর বয়সী মেসি খেলার আগেই বনে গিয়েছিলেন বার্সেলোনার বিস্ময়। সুপারস্টার হিসেবে এসে জেতেন সোনার পদক। এই সাফল্য তার মহিমান্বিত ক্যারিয়ারকে আরও গতিশীল করে।
এর চার বছর পর ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ২০ বছর বয়সী সালাহর গল্প ছিল একেবারেই ভিন্ন। অচেনা এই তরুণ গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে মিসরকে নকআউট পর্বে নিয়ে যান। সেবার কোনো পদক না জিতলেও, সেই অলিম্পিক ছিল বিশ্বমঞ্চে তার আগমনী বার্তা। খেলার শৈলীতেও এই দুজন ভিন্ন। মেসি ফুটবলের এমন এক মহান জাদুকর, যিনি সংকীর্ণ জায়গায় বলের নিয়ন্ত্রণ এবং খেলার গতিকে নিজের মতো মন্থর করার কারিগর। আর সালাহ তৈরি হয়েছেন বিস্ফোরক গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য। তবে দুটি ভিন্ন পন্থাই একক ক্ষমতাবলে নিজ নিজ দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে বদলে দিয়েছে।
এই টুর্নামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আফ্রিকান দেশ নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। সালাহ যখন মেসির সঙ্গে শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করবেন, তখন তার কাঁধে থাকবে পুরো একটি মহাদেশের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। আটলান্টার এই ম্যাচ মূলত এমন দুজন মানুষের গল্প, যারা একই চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি পথ বেছে নিয়েছিলেন। লাতিন রাজার বিপক্ষে লড়াইটা ফারাও রাজার। যেই জিতুক— লড়াইয়ের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকুক রোমাঞ্চ।




