বিশ্বকাপ
এমবাপ্পের গোলকে ‘হ্যান্ডবল’ দাবি মরক্কো কোচের

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে মরক্কোর যাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে। মাঠের লড়াই শেষে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। তার দাবি, কিলিয়ান এমবাপ্পের করা ফ্রান্সের প্রথম গোলটি হ্যান্ডবল আইনে বাতিল হওয়া উচিত ছিল। ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে দেওয়া ওই গোলটির বিল্ড-আপে হ্যান্ডবল হওয়ায় তার খেলোয়াড়দের মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছিল বলে জানান এই মরক্কো বস।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের খেসারত চুকিয়ে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। তবে মরক্কো কোচের দাবি, এমবাপ্পের পায়ে বল যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওতের হাতে বল লেগেছিল। ম্যাচ শেষে ‘বিইন স্পোর্টস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেলোর তীব্র সমালোচনা করে ওয়াহবি বলেন, ‘গোলটি হওয়ার সময় আমাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় সেখানে থমকে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, কারণ তারা পরিষ্কার হ্যান্ডবল দেখেছিল। ওটা নিশ্চিতভাবেই হ্যান্ডবল ছিল! রেফারি কেন বাঁশি বাজালেন না, আমি জানি না।’
এই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে উসমান দেম্বেলের গোলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মরক্কো। বিতর্কিত গোল নিয়ে হতাশা থাকলেও প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের বিশ্বমানের স্কিল ও শক্তির প্রশংসা করতে ভোলেননি ৪৯ বছর বয়সী এই কোচ। প্রথমার্ধে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো যেভাবে এমবাপ্পের পেনাল্টি রুখে দিয়েছিলেন, সেটিকে দলের বড় প্রাপ্তি মানছেন তিনি। ওয়াহবি বলেন, ‘আমাদের মেনে নিতেই হবে যে আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি। প্রথমার্ধে আমাদের বেশ ভুগতে হয়েছে, তবে বুনো পেনাল্টি ঠেকিয়ে আমাদের ম্যাচে রেখেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক গোছানো ফুটবল খেলেছি, বিশেষ করে বল পজিশন ধরে রাখার ক্ষেত্রে ছেলেরা অনেক পরিণত ছিল।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গের হতাশা থাকলেও দল সঠিক পথেই আছে বলে বিশ্বাস করেন কোচ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মরক্কো কোচ বলেন, ‘বিদায়টা নিঃসন্দেহে ভীষণ কষ্টের, আমরা আরও বহুদূর যেতে চেয়েছিলাম। তবে আমাদের এই ইতবাচক ধারাটা ধরে রাখতে হবে। দলে চোটের সমস্যা বা খেলোয়াড়দের ক্লান্তির বিষয়টি সামাল দিতে আমাদের প্লেয়ার পুল আরও বড় করতে হবে। আমরা এখানেই থেমে যাব না, এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।’







