বিশ্বকাপ
কেইন আর হলান্ডের মাঝে কে বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার?

শনিবার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে সদ্যই জিতেছে ইংল্যান্ড, ওদিকে ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে রূপকথা লিখেছে নরওয়ে। ইংল্যান্ড একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, নরওয়ের সেই সৌভাগ্য হয়নি। তবে ম্যাচ ছাপিয়ে সবার নজর এখন বিশ্বের বর্তমান সেরা দুই ‘নম্বর নাইন’ হ্যারি কেইন বনাম আর্লিং হলান্ডের দ্বৈরথে।
কিলিয়ান এমবাপ্পেকে যদি পিওর স্ট্রাইকার বা প্রথাগত ৯ নম্বর হিসেবে গণ্য না করা হয়, তবে এই মুহূর্তে কেইন ও হলান্ডই যে বিশ্বের সেরা দুই স্ট্রাইকার, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তবে পজিশন এক হলেও খেলার ধরন এবং ব্যক্তিত্বে দুজনে যেন উত্তর ও দক্ষিণ মেরু। নরওয়ের হলান্ড মাঠে খুব কমই বল স্পর্শ করেন, কিন্তু বক্সে বল পেলেই প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে ওঠেন আতঙ্ক। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কেইন পুরো মাঠ জুড়ে খেলেন। নিচে নেমে নিখুঁত পাসিংয়ে ‘নম্বর টেন’ বা প্লে-মেকারের ভূমিকাতেও তিনি সমান কার্যকর। ফিনিশিংয়ের দিক থেকে কে সেরা, তা নির্ধারণ করা সবচেয়ে কঠিন। হলান্ড সাধারণত বক্সের ভেতর থেকে গোল করে অভ্যস্ত এবং তিনি এতে বিশ্বমানের। কিন্তু হ্যারি কেইন এখানে কিছুটা এগিয়ে তার বৈচিত্র্যের কারণে। কেইনের এমন কোনো ‘সিগনেচার গোল’ নেই যা দিয়ে তাকে চেনা যায়, কারণ তিনি সব পজিশন থেকে গোল করতে পারেন। দুই পায়েই সমান দক্ষ, দূরপাল্লার শটে দারুণ এবং শূন্যেও সমান কার্যকর। হলান্ডের সহজাত প্রবৃত্তি বক্সে বেশি হলেও, শটের বৈচিত্র্য ও ফিনিশিংয়ের পরিধিতে কেইনই এগিয়ে থাকবেন।
নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে হলান্ডের প্রথম গোলটির কথাই ধরা যাক। গ্যাব্রিয়েলের মতো ডিফেন্ডারকে অনায়াসে টপকে যেভাবে তিনি হেডে গোলটি করলেন, তাতেই তার হেডিং দক্ষতার প্রমাণ মেলে। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান তারকা অবিশ্বাস্য অ্যাথলেটিসিজম এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের কারণে বাতাসে বলের দখল নিতে অনন্য। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ইংলিশ ফুটবলে তার চেয়ে বেশি হেডে গোল কেউ করতে পারেনি। কেইন হেডে ভালো হলেও হলান্ড এই ক্ষেত্রে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। আধুনিক ফুটবলে গতি এক বড় অস্ত্র। কেইনের গতি খারাপ না হলেও এই জায়গাটাতেই তার দুর্বলতা আছে বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু গতির ক্ষেত্রে হলান্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন গ্রহের ফুটবলার। ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ২২.৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে দৌড়েছিলেন তিনি, যা আশরাফ হাকিমি কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়েও বেশি। লম্বা স্ট্রাইডের কারণে একবার গতি তুললে হলান্ডকে থামানো যেকোনো ডিফেন্ডারের জন্যই অসম্ভব।
শনিবারের ম্যাচটি শুধু ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, এটি কেইন ও হলান্ডের মধ্যে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারের মুকুট ছিনিয়ে নেওয়ারও এক অন্তিম যুদ্ধ। মাঠের লড়াইয়ে কার কৌশল শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।






