বিশ্বকাপ
ব্রাজিলকে হারিয়ে এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না হলান্ডের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে নরওয়ে। আর এই রূপকথার জয়ের মহানায়ক অন্য কেউ নন—আর্লিং হলান্ড। ম্যাচে জোড়া গোল করে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়েছেন এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা এক ভিডিওতে জানিয়েছেন ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তিকে হারানোর অভিজ্ঞতা।
ভিডিওতে নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিন ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যকে স্মরণ করে বলেন, ‘ব্রাজিল হলো ফুটবলের আসল দেশ। বিশ্ব ফুটবলের খোঁজ নিতে গেলে কিংবদন্তি সব খেলোয়াড়দের কারণে এই দেশটির নামই হয়তো সবার আগে মাথায় আসে। তাদের ঐতিহ্যবাহী জার্সি, দেশ, ফুটবল নিয়ে আবেগ আর ফুটবল ইতিহাসের সেরা সব প্রতিভারা সেখানে খেলেছেন। সেই ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামাটাই আমার কাছে একরকম অবাস্তব ও পরাবাস্তব অনুভূতি ছিল।’
হলান্ড অকপটে স্বীকার করেছেন যে, ম্যাচের আগে ব্রাজিলই ছিল নিরঙ্কুশ ফেবারিট। আর সেই কারণেই কোচ স্টেল সলবাকেনের দলের ওপর কোনো বাড়তি মানসিক চাপ ছিল না। ম্যাচ শুরুর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পাওয়াকে অসম্ভব বলেই মনে করেছিলেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে এক চোখধাঁধানো হেডে নরওয়ের জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি করেন হলান্ড।
সেই মুহূর্তের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘এখনো পুরো বিষয়টা আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে, যেন অনেক দূরের কোনো গল্প। আমি কখনোই ভাবিনি এমন কিছু সত্যি সত্যি ঘটতে পারে। আর এই কারণেই ব্রাজিলকে হারিয়ে দেওয়াটা আমার কাছে আরও বেশি অবিশ্বাস্য লাগছে। এটি একটি শ্বাসরুদ্ধকর ও অবিশ্বাস্য অনুভূতি। এখন আমার একটু রিল্যাক্স করা এবং ঘুমানো দরকার, কারণ আমি পুরোপুরি ক্লান্ত।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয় নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে গেছে। তবে উদযাপনের জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছে না ভাইকিংরা। আগামী শনিবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। হলান্ডের এই ফর্ম বজায় থাকলে বিশ্বকাপে নরওয়ে যে আরও বড় কোনো রূপকথা লিখতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।






