রিভালদো
আমি ব্রাজিলিয়ান হয়েও বলছি, মেসি অসাধারণ

মিশরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৩ মিনিটের জাদুতে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় এখনো বুদ করে রেখেছে ফুটবল বিশ্বকে। ৩৯ বছর বয়সে লিওনেল মেসির এমন অদম্য লড়াই আর কান্না ছুঁয়ে গেছে খোদ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবদন্তি রিভালদোকেও। মাঠের চিরন্তন বৈরিতা ভুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির একাগ্রতা ও আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতার স্তুতি গেয়েছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা, যা মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
ম্যাচ শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্জেন্টিনার উদযাপনের একটি ছবি শেয়ার করে বিশ্বকাপজয়ী এই সুপারস্টার লিখেন, ‘কী দুর্দান্ত সংকল্প, জয়ের কী তীব্র আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যেকের কী অবিশ্বাস্য লড়াই আর দায়বদ্ধতা! ফিফা বিশ্বকাপে সমর্থকেরা মাঠের মধ্যে ঠিক এটাই দেখতে চায়। আর লিওনেল মেসির কথা তো নতুন করে বলার কিছু নেই; কী অসাধারণ একজন খেলোয়াড়! ৩৯ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে এসেও আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য তার একই রকম আবেগ। সে গোল উদযাপন করছে, লড়াই করছে, কাঁদছে এবং আবারও নিজেকে ম্যাচজয়ী হিসেবে প্রমাণ করছে।’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলীয় দ্বৈরথকে সম্মান জানিয়েই রিভালদো আরও যোগ করেন, ‘আমি ব্রাজিলিয়ান। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং সবসময় আমাদের জাতীয় দলকেই সমর্থন করব। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলেরই একটা অংশ। তবে মাঠে যারা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেয়, সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে কীভাবে স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা জানাতে হয়, সেটাও আমি জানি। এই ধরনের ম্যাচ ফুটবলের মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায় এবং এগুলোই বিশ্বকাপের সত্যিকারের সৌন্দর্য।’
রিভালদোর এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের বন্যা বয়ে গেছে দুই দেশের ফুটবল ভক্তদের। একজন আর্জেন্টাইন সমর্থক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আপনার মতো একজন কিংবদন্তি যখন মেসির প্রশংসা করেন, তখন তা আমাদের জন্য বিশাল সম্মানের। আর্জেন্টিনার সব ভক্তদের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে শ্রেষ্ঠত্বকে সম্মান জানানোর এই মানসিকতাই আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা ও কিংবদন্তি করে তুলেছে।’ উল্লেখ্য, আটলান্টার সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্রথমার্ধে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে মিশর এগিয়ে যাওয়ার পর পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। পরবর্তীতে মোস্তফা জিকোর গোলে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে আর্জেন্টিনার বিদায় সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মেসির অ্যাসিস্টে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোল, এরপর মেসির নিজস্ব ভলিতে সমতা এবং ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে মিশর অবশ্য বাজে রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলেছে।






