বিশেষজ্ঞ মত
পেনাল্টিতে কেন এত নড়বড়ে মেসি?

লিওনেল মেসি এবং রেকর্ড—ফুটবল বিশ্বে শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। ক্যারিয়ারজুড়ে হাজারো কীর্তি নিজের নামের পাশে লিখিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে চলতি বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লেখালেন। বিশ্বমঞ্চে পেনাল্টি মিসের রেকর্ডের চূড়ায় এখন এই আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। কিন্তু মেসির মতো খেলোয়াড় কেন পেনাল্টি মিস করেন? উত্তর খুঁজেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে মেসির পেনাল্টি রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির নেওয়া অষ্টম পেনাল্টি কিক। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো একক খেলোয়াড় এত বেশি পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পাননি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের টাইব্রেকার বাদে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি হাতছাড়া করা খেলোয়াড় এখন মেসি। মিশরের বিপক্ষে স্পট কিকটি সফল করতে না পারায় বিশ্বকাপে মেসির মোট পেনাল্টি মিসের সংখ্যা হলো ৪টি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ড। শুধু তা-ই নয়, এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। ফলে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট সংস্করণেই দুটি পেনাল্টি মিস করার নজির গড়লেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও তিনি একই ভুল করেন। তবে সেবার ৩৬ বছরের খরা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। চলতি আসরের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। এরপর গতকাল মিশরের বিপক্ষে করলেন সর্বশেষ পেনাল্টি মিস। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি সফলভাবে জালে পাঠিয়েছেন মেসি। আর ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে ক্যারিয়ারের মোট ১৫০টি পেনাল্টির মধ্যে গোল করেছেন ১১৬টিতে। অর্থাৎ স্পট কিকে তাঁর সফলতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ। ফুটবলের একদম শীর্ষ স্তরের পেনাল্টি স্পেশালিস্টদের গড় সফলতার চেয়ে এই হার কিছুটা কম। পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ গেইর ইয়রদেত বলেছেন, ‘যেহেতু মেসি শট নেওয়ার সময় গোলরক্ষকের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাই বলের ওপর থেকে তার নজর সরে যায়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই শটের নিশানা পুরোপুরি নিখুঁত হয় না।’
হ্যারি কেইন, জর্জিনহো কিংবা রবার্ট লেভানডফস্কির মতো পেনাল্টি স্পেশালিস্টরা যেখানে নির্দিষ্ট টেকনিকের ওপর ভরসা রাখেন, সেখানে মেসি প্রায়শই তার শটের ধরন ও লক্ষ্যস্থল পরিবর্তন করেন, যা অনেক সময় বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। চলতি বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার এবং মিশরের মোস্তফা শোবের—উভয়েই মেসির এই মন্থর রান-আপের সময় বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এর ফলে মেসি বিভ্রান্ত হয়ে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে শটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। অবশ্য পেনাল্টি মিসের এই হতাশার সমান্তরালে স্পট কিক থেকে আর্জেন্টিনার হয়ে বহু মহাকাব্যও লিখেছেন মেসি। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের অভিযানে টাইব্রেকার বাদে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। তবে চলতি আসরে যেন পেনাল্টি ভাগ্য যেন কিছুটা হলেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এলএমটেনের ওপর থেকে। শেষ পর্যন্ত দল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় এই যাত্রায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।







