ফুঁসছে মিশর
মেসিকে টিকিয়ে রাখতেই এই অবিচার

ম্যাচের বয়স তখন ৭৮ মিনিট। আটলান্টা স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে মিশর ২, আর্জেন্টিনা ০। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের হাতছানি তখন আফ্রিকান দেশটির সামনে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল মিশরীয়রা। কিন্তু পরের ১৪ মিনিটে যা ঘটল, তা এক অবিশ্বাস্য চিত্রনাট্য। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি আর ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেসের গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক রূপকথার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
তবে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন বড় আলোচনা সৃষ্টি করেছে ম্যাচ অফিশিয়ালদের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছে মিশর। তাদের দাবি, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই রেফারিরা পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছেন।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের চমৎকার হেডে এগিয়ে যায় মিশর। ম্যাচের এক পর্যায়ে তারা ২-০ ব্যবধানে লিড নেয়। এর মাঝে আর্জেন্টিনার একটি পেনাল্টি দারুণভাবে রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের, যেখানে স্বয়ং লিওনেল মেসির শট ফিরিয়ে দেন তিনি।
৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান কমান (২-১)। এর মাত্র চার মিনিট পর, ৮৩ মিনিটে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের রাতে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক লিওনেল মেসি (২-২)। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) এনজো ফার্নান্দেসের করা দুর্দান্ত হেডে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে আলবিসেলেস্তেরা।
মিশরের অভিযোগের মূল তীর ভিএআর এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারের দিকে। ম্যাচ যখন ১-০ ব্যবধানে মিশরের পক্ষে, তখন মোস্তফা জিকোর করা একটি দারুণ গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। রেফারির দাবি ছিল, গোলটি হওয়ার ১৭ সেকেন্ড আগে মাঝমাঠে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেসের পায়ে সামান্য আঘাত করেছিলেন।
মিশরীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়ে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগ মুহূর্তে। আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের ভেতর মোহামেদ সালাহকে জুলিয়ান আলভারেজ ফাউল করেছেন বলে দাবি তোলে মিশর। কিন্তু রেফারি বা ভিএআর কেউই সেটিতে সাড়া দেয়নি। উল্টো পাল্টা আক্রমণে গিয়ে গোলটি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
রেফারির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠের পাশেই ফিফা অনুমোদিত বর্ণবাদ বিরোধী প্রতীক হিসেবে দুই হাত বুকের সামনে ক্রস করে দাঁড়িয়ে যান মিশরের কোচ হোসাম হাসান। এই প্রতিবাদের জন্য তাঁকে হলুদ কার্ড এবং মিশরের একজন সহকারী কোচকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
ম্যাচ শেষে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান বলেন, 'আমাদের সাথে চরম অবিচার করা হয়েছে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে অনেক কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ। হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন টুর্নামেন্টে থাকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব মহল থেকে সুবিধা পেয়েছে।'
দলের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোও একই সুর মিলিয়ে বলেন, 'রেফারি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আমাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে।'
-বিবিসি স্পোর্টস




