স্পেন না পর্তুগাল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ডালাসে আজ হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। আইবেরিয়ান ডার্বি নামে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দুই প্রতিবেশী স্পেন ও পর্তুগাল মুখোমুখি হবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে। বিজয়ীরা পা রাখবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। দুই দেশের ১০৫ বছরের ঐতিহাসিক ফুটবল দ্বৈরথ ছাপিয়ে এখন একটাই প্রশ্ন— আজই কি শেষবারের মতো খেলতে নামছেন পর্তুগিজ রাজা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো?
ইতিহাস অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। বিশ্বকাপে কখনোই পর্তুগাল পারেনি তাদের হারাতে। মূল পর্বে দুবারের সাক্ষাৎকারে স্পেন একবার জিতেছে, অন্য ম্যাচটি ছিল অমীমাংসিত। ২০১০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ডেভিড ভিয়ার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারায় স্পেন। আর ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে দুই দলের শেষ লড়াইটা ছিল গ্রুপ পর্বে। রোনালদো হ্যাটট্রিক করলেও ম্যাচটা শেষ হয় ৩-৩ ড্রয়ে।
সব মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে স্পেনের জয় ১৭টিতে, পর্তুগাল জিতেছে ছয় ম্যাচ। আর ড্র হয়েছে ১৮ ম্যাচ। তবে গত বছর ইউরোপিয়ান নেশনস লিগে অতীত পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণ করে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতার পর টাইব্রেকার ভাগ্য নিজেদের করে নেয় রোনালদো বাহিনী।
এ বিশ্বকাপই পর্তুগাল জার্সিতে রোনালদোর শেষ— এরকম একটা ঘোষণা দিয়েছেন তার বোন। বারুদঠাসা এ ম্যাচের আগে তাই জোর গলায় এই তারকাকে নিয়ে ইতিবাচক কিছু বলার উপায় নেই। ৪১ বয়সী এ ফরোয়ার্ড পর্তুগালের জার্সিতে ২১৯ ম্যাচে ১৩৭ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাবটা নিজের করে নিয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে করেছেন ৩ গোল। টানা ছয় বিশ্বকাপে গোলের অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন। যেখানে তার চেয়ে পিছিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসিও।
এ বিশ্বকাপে রোনালদো বড্ড অধারাবাহিক। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের দুটিতে গোল পাননি। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ছিল জোড়া গোল। তার তৃতীয় গোলটি করেছেন শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল আজ চাইবে নেশনস লিগের হারের বদলা নিতে। ফর্মের তুঙ্গে থেকে বিশ্বকাপ শুরু করা স্পেনকে প্রথম ম্যাচে আটকে দিয়েছিল অখ্যাত কেপ ভার্দে। সে ম্যাচে ড্রয়ের পর অবশ্য স্বরূপে ফিরে স্পেন খেলছে দুর্দান্ত ফুটবল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপানের ম্যাচের পর থেকে আর কোনো গোল হজম করেনি তারা। তবে পর্তুগাল সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো মিডফিল্ড নিয়ে তারা স্পেনের মিডফিল্ডারদের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিতে প্রস্তুত।
এই বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র লামিন ইয়ামাল। বিশ্বমঞ্চে খেলার চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছেন এই তরুণ উইঙ্গার। তবে স্পেন শুধু তার ওপর নির্ভরশীল নয়। আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের মেলবন্ধনে তারা এই বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাদের ৩-০ গোলের জয়ের পর ইয়ামাল জোর গলায় বলেছিলেন, ‘আমাদের হয়তো আরও উন্নতি করতে হবে। তবে আমরা কাউকে ভয় পাই না।’
প্রচ্ছন্ন হুমকিটা রোনালদোর পর্তুগালের উদ্দেশেই হয়তো দিয়েছিলেন ইয়ামাল। শেষ ষোলোতে পৌঁছালেও খুব স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নেই দলটি। ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দুটি ড্রয়ের পর কলম্বিয়ার পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছিল তারা।
প্রজন্মের লড়াই বলা হচ্ছে এই ম্যাচকে। বয়সের ছাপ রোনালদোর খেলায় স্পষ্ট। তবে লড়াকু মানসিকতায় এতটুকু ঘাটতি নেই। আগের বিধ্বংসী গতি হয়তো কিছুটা কমেছে, তবে বক্সের ভেতর তিনি এখনো সমান বিপজ্জনক। নেশনস লিগের ফাইনালে ২-২ সমতাসূচক গোলটি করে ম্যাচটা টাইব্রেকারে নিয়ে গিয়েছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
যে দুটি দল
শিরোপায় চোখ রেখে এসেছে, তাদের একটি বিদায় নেবে আজ রাতে। একই সঙ্গে ভেঙে যাবে অনেক
তারকার স্বপ্নও। তারকায় ঠাসা দুই দলে মহাতারকা একজনই— রোনালদো। তার অপূর্ণ বিশ্বকাপ
স্বপ্ন গতি পাবে নাকি যতি টানবে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এই ম্যাচে।




