বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ নিয়ে সন্দেহ

কোপেনহেগেন গ্রুপের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে সাতটি ম্যাচের কয়েকটি বিশেষ ঘটনা, যা তাদের দৃষ্টিতে সন্দেহজনক।
বিশ্বকাপ শেষ, তবে রয়ে গেছে রেশ। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জিতেছে, ফাইনাল আবারও আয়োজনের জন্য হাজারো সই পড়েছে। রেফারিংয়ের মান এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপ নিয়েও বেশ কিছু সমালোচনা হয়েছে। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করেছে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপেনহেগেন গ্রুপ। তাদের পর্যবেক্ষণে সাতটি ম্যাচ ঘিরে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে, যার ভেতরে আছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুটি ম্যাচও।
৫০টি সংস্থার ২০০-এর বেশি পর্যবেক্ষক বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। এমনই একটি সংস্থা কোপেনহেগেন গ্রুপের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে সাতটি ম্যাচের কয়েকটি বিশেষ ঘটনা, যা তাদের দৃষ্টিতে সন্দেহজনক। এই ঘটনাগুলোর পেছনে দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে বলে মনে হয়েছে তাদের।
প্রথমটি হচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানের লালকার্ড দেখা। ম্যাচের ৬১ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে ৮৪ মিনিটে রবের্তো আলভারাদাকে ফাউল করার অপরাধে তাকে সরাসরি লালকার্ড দেখান রেফারি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের ড্র নিয়েও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড খুঁজে পেয়েছে কোপেনহেগেন গ্রুপ। মার্কিন ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক ফলাফল অনুমানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পলিমার্কেটে স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে জিতবে না, এর পক্ষে ৪.৮ মিলিয়ন ডলার বাজি ধরা হয়। ম্যাচে স্পেন জিততেও পারেনি।
সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের ৪-০ গোলের জয়ে ফেরান তোরেসের করা গোল সাড়ে ৩ মিনিট পর ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। তবে সবচেয়ে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লালকার্ড নিয়ে। পলিমার্কেটে তাকে নিয়ে একটা পূর্বাভাস বা বাজি ছাড়া হয়, ‘ফোলারিন বালোগুন কি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন?’ তারিখটা ছিল ২ জুলাই। একই দিনে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন বালোগুন। টুর্নামেন্টে লালকার্ড দেখা আরও ১৪ জন ফুটবলারের কাউকে নিয়েই পলিমার্কেটে এরকম কোনো বাজি ধরার সুযোগ তৈরি করা হয়নি। কারোরই কার্ড সাসপেন্ড হয়নি। শুধু তার বেলাতেই ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানায় যে তার লালকার্ড সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোপেনহেগেন গ্রুপ ইউরোপের ম্যাচে পরিচালনার স্বচ্ছতাবিষয়ক আইনের আওতায় ফিফার কাছে বালোগুনের লালকার্ড সাসপেনশনের ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। ফিফার পক্ষ থেকে বিশ্বকাপ চলাকালীন কোনো সন্দেহভাজন ম্যাচ পাতানো কিংবা দুর্নীতির চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হলেও জুয়া বিশেষজ্ঞ ও সরকারী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করা ক্রিস্টিয়ান কালব জানিয়েছেন, তার চোখে বেশ কিছু সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে তিনি জানিয়েছেন, কোপেনহেগেন গ্রুপের দেওয়া সংকেত বা সতর্কতাগুলোর পেছনে বাজি ধরার হারের হঠাৎ পরিবর্তন কিংবা আকস্মিক বিপুল অর্থের লেনদেনের মতো অস্বাভাবিক আচরণ থাকতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে এগুলো শুধুই ম্যাচ পাতানো বা কারচুপি— এর পেছনে আরও অনেক যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা রয়েছে। কোপেনহেগেন গ্রুপ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই প্রেডিকশন মার্কেটগুলো এমন কিছু অভূতপূর্ব সমস্যার জন্ম দিচ্ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এ ধরনের মার্কেটগুলোর ওপর নজরদারি চালানো এবারই প্রথম। কোপেনহেগেন গ্রুপ তাদের পুরো প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি। তারা মূলত ‘ম্যাকোলিন কনভেনশন’-এর আওতায় ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’ থেকে নিজেদের কাজ পরিচালনা করে, যা ক্রীড়াঙ্গনে কারচুপি রোধে একমাত্র আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামো। ইউরোপের সেই কাউন্সিল থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সারাংশে এই সতর্কতাগুলো জানানো হয়েছে।




