ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
মার্কিন কংগ্রেসে ইনফান্তিনোকে তলব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার ঘনিষ্ট সম্পর্ক এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কংগ্রেস। প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সদস্য জেমি রাসকিন ইনফান্তিনোকে তলব করে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা প্রধানের ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লেনদেনের বিষয়টি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কংগ্রেস সদস্য জেমি রাসকিন ফিফাকে আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে উপহার, অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা লেনদেনের রেকর্ড এবং গত বছর ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার নেওয়া কার্যালয়ের ভিজিটর লগ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই বিষয়ে কমিটির সামনে একটি ট্রান্সক্রাইবড ইন্টারভিউ বা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যও ইনফান্তিনোকে অনুরোধ করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে কথিত ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। এছাড়া গত বছর ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা কার্যালয় স্থাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডেমোক্রেট আইন প্রণেতারা। যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে মার্কিন স্ট্রাইকার ফলোরিয়ান বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি পুনর্বিবেচনা করতে ট্রাম্প সরাসরি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে টুর্নামেন্টজুড়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই টিকিটের মূল্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। ডাইনামিক প্রাইসিং ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করার পেছনেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার কোনো গোপন সমঝোতা ছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখছে কমিটি। এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে এমন তদন্ত ও সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ফিফা সভাপতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ১৫ পর্বের এক দীর্ঘ বার্তায় সমালোচকদের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগ এনেছেন ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সফল হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই বিশ্ববাসী এক আনন্দঘন বিশ্বকাপ উপভোগ করেছে। তবে ডেমোক্রেটরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় ইনফান্তিনোকে সরাসরি বাধ্য করার ক্ষমতা তাদের নেই। তা সত্ত্বেও এই তদন্ত ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।






