অবশেষে বিশ্বকাপের সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন ইনফান্তিনো

সংগৃহীত ছবি
২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচকদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টকে ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ বিশ্বকাপ দাবি করে তিনি বলেছেন যারা এর আয়োজন ও নানা বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তারা ঘৃণা ও নেতিবাচকতায় এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে ফুটবলের প্রকৃত আনন্দ দেখতে পাননি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নানা বিতর্কেও আলোচনায় ছিল। তবে এসব সমালোচনার জবাব দিতে ইনস্টাগ্রাম ও ফিফার আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে দীর্ঘ এক বিবৃতি দেন ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি বিশ্বকাপকে মানুষের মিলনমেলার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে সমালোচকদের উদ্দেশে ধ্যান, প্রার্থনা কিংবা ফুটবল দেখে আবেগ অনুভব করার পরামর্শ দেন।
ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘যারা শিশু, বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা বয়সী মানুষকে একসঙ্গে ফুটবল উপভোগ করতে দেখেননি তাদের জন্য দুঃখিত। আরও দুঃখিত যে ম্যাচগুলো শেষ হয়ে গেছে এবং আপনারা সেই আনন্দ ও ঐক্য অনুভব করার সুযোগ হারিয়েছেন। আপনারা ঘৃণা আর সমালোচনায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে পুরো বিষয়টিই মিস করেছেন।’
বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান, হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টসহ কয়েকটি দেশের সমর্থক ও কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানও দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
তবে ইনফান্তিনোর দাবি, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার তুলনায় টুর্নামেন্টের সামগ্রিক সাফল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৭০ লাখ দর্শক বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের পর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বালোগুনের বিষয়টি নিয়ে তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপরই রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে।
যদিও ইনফান্তিনো সরাসরি এ ঘটনা উল্লেখ করেননি তবে তিনি বলেছেন, ‘রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া বা না দেওয়ার মতো বিষয় বিশ্বের বড় বড় লিগেও নিয়মিত ঘটে। সেখানে এগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু একই ধরনের ঘটনা বিশ্বকাপে ঘটলেই কিছু দেশ কঠোর সমালোচনা শুরু করে যা বিস্ময়কর।’




