ফিফা ও মেসিকে জড়িয়ে পোস্টে রোনালদোর লাইক, মুহূর্তেই গায়েব

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর এবার নতুন বিতর্কে জড়ালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টুর্নামেন্টে ফিফা ও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে—এমন দাবি করা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পর্তুগিজ তারকার অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লাইক’ দেওয়া হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। এর মাধ্যমেই ৪১ বছর বয়সী সুপারস্টার রোনালদোর বর্ণিল ও দীর্ঘ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। অন্যদিকে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছে। আসরজুড়েই ফিফার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ ছিল।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এসপেহো পাবলিকো’-র একটি ভিডিও পোস্টে দেখা যায়, সাংবাদিক পিলার রদ্রিগেজ লসান্তোস ফিফাকে ‘পৃথিবীর অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি’ হিসেবে অভিযুক্ত করছেন। ওই ভিডিওটিতে দাবি করা হয় যে, টুর্নামেন্টজুড়ে আলবিসেলেস্তেরা বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিজেদের অনুকুলে পেয়েছে। আর এই পোস্টটিতেই রোনালদোর ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে লাইক দেওয়া হয়, যদিও পরবর্তীতে তা আর দেখা যায়নি।টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার পক্ষে কিছু সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে সমালোচকরা বলছেন, প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির লাল কার্ড না পাওয়া কিংবা মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের একটি গোল বাতিল হওয়া—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আর এই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পক্ষে রোনালদো অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি। এই ঘটনা নিয়ে ‘গোল ডটকম’ ‘মার্কা’ ‘বিইন স্পোর্টস’ ‘দ্য সান’ এর মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষেরই বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আলোচিত সেই পোস্টে রোনালদোর লাইক এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিফার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে কথা বলার নৈতিক অবস্থান রোনালদোর নেই। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফার এক বিশেষ শৃঙ্খলাগত সিদ্ধান্তের সুফল পেয়েছিলেন তিনি। বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সহিংস আচরণের দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর তার কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফিফা সেই শাস্তি কমিয়ে মাত্র এক ম্যাচ কার্যকর করে এবং বাকি দুই ম্যাচ এক বছরের জন্য স্থগিত রাখে, যার ফলে রোনালদো পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোতেই মাঠে নামার সুযোগ পান।







