হামজাদের নতুন জার্সির সঙ্গে প্রাপ্তি দুই স্টেডিয়াম

ছবি: আগামীর সময়
হামজা চৌধুরীদের জন্য নতুন জার্সি ডিজাইন করেছে জাতীয় দলের কিট পার্টনার দৌড়। আজ মঙ্গলবার ছিল সেই জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি তাবিথ আউয়াল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করেন। এই অনুষ্ঠানেই সরকার বাফুফের কাছে দুটি স্টেডিয়ামকে ফুটবলের কাছে হস্তান্তর করেছে। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ও বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফেকে হস্তান্তর করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের দলে যুক্ত হওয়ার পর থেকে কদর বেড়েছে জার্সির। দৌড়ের ডিজাইন করা প্রথম জার্সিটি বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে ভক্ত-সমাজে। সাদা-সবুজ সে জার্সি অবশ্য এখন আর থাকছে না। হামজারা আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে সাদা-লাল জার্সিতে। শার্টে সাদার মধ্যে লাল কারুকাজ থাকছে। আর শর্টস হচ্ছে একেবারে লাল। শার্টে থাকছে বাংলা বর্ণমালা। অ্যাওয়ে জার্সি অবশ্য খুব বেশি বদলায়নি। সবুজ জার্সির সঙ্গে আছে লালের মিশেল।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটরিয়ামে হয় জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উন্মোচন করেন হামজা-ঋতুদের অ্যাওয়ে জার্সি। আর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল পর্দা সরিয়ে সামনে আনেন অ্যাওয়ে জার্সি। যদিও যে দু'টি ডামি পুতুলে জার্সি দুটি পড়ানো হয়েছিল তার একটি ছিল মস্তকবিহীন। যা অনুষ্ঠানে ভীষণ দৃষ্টিকটু ঠেকেছে।
অতীতে জার্সিকে কখনোই খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো না। তাবিথ আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর দৌড়ের সঙ্গে দু’বছরের চুক্তি করে। এর মাঝেই বছর কেটে গেছে দুই বছর। চুক্তির শর্তের তুলনায় অনেক বেশি জার্সি নারী ও পুরুষ সিনিয়র জাতীয় দল থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক দলগুলোকে সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অখ্যাত দৌড় খুব অল্প সময়েই ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছে। দৌড়ের স্বত্বাধিকারী আবিদ আল চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি ২০ হাজারের মতো জার্সি বিক্রি করেছে এবং লভ্যাংশের একটি অংশ চুক্তি অনুযায়ী বাফুফেকেও দিয়েছে।
নতুন ডিজাইনের জার্সির মূল্য অবশ্য এবার অনেক বেশি রেখেছে দৌড়। আবিদের যুক্তি, ‘ফেব্রিকের কারণেই দামটা একটু বেশি। তবে সামনে আমরা ফ্যান জার্সি বের করবো, যেটা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মূল্য রাখা হবে। বাফুফে সেটি অনুমোদন দিলেই আমরা বাজারে ছাড়বো।’
দৌড়ের করা ডিজাইনের জার্সিটি ব্যাপকহারে স্থানীয় বাজারে কপি হিসেবে তৈরি করে বাজারজাত করেছে অনেক সুযোগ সন্ধানী জার্সি ব্যবসায়ী। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়নি দৌড়ের, জানালেন আবিদ।
এদিকে জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসে একটু অবাকই হলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজে ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমরা যখন খেলতাম, তখন বাজার থেকে জার্সি কিনে এনে দিতেন কর্মকর্তারা। এত ব্র্যান্ডিং ও আনুষ্ঠানিকতা করে কখনও জার্সি পড়া হয়নি। এ রকম ব্যবস্থার জন্য বাফুফে সভাপতিকে ধন্যবাদ।’
এতদিন দৌড় অনলাইনে জার্সি বিক্রি করতো। তবে এখন থেকে তারা ইনফিনিটি স্টোরের মাধ্যমেও জার্সি বিক্রি করবে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল প্রতিষ্ঠানটিকে নিজস্ব শো-রুমের মাধ্যমে জার্সি বিক্রির অনুরোধ জানান।
দৌড়ের সঙ্গে চুক্তিটা লাভজনক দাবি করেছেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম, ‘দৌড়ের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি- তারা জার্সি বিক্রি করলে সেখান থেকে লভ্যাংশ দেবে। সেটা প্রতি মাসে তারা পরিশোধ করছে। বছর শেষে সেটা ভালো অঙ্কই। পাশাপাশি বিগত সময়ে জার্সি কিনতে আমাদের যে খরচ হতো সেটা এখন হচ্ছে না।’
জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দুটি স্টেডিয়াম আনুষ্ঠানিক বাফুফের কাছে হস্তান্তর করে। এ নিয়ে হওয়া সমঝোতা স্মারকে বাফুফের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষে পরিচালক ক্রীড়া জাহেদ পারভেজ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।








