সাপ উদ্ধার-অবমুক্ত করেন মিথুন

সাপ ধরে ঝোপে অবমুক্ত করছেন আশিকুল ইসলাম মিথুন
বাড়ির উঠানে, রান্নাঘরসহ লোকালয়ে সাপ ঢুকে পড়ার খবর পেলেই ছুটে যান আশিকুল ইসলাম মিথুন। আতঙ্কিত মানুষ যখন সাপটিকে মেরে ফেলতে চান, তখন মিথুনের চেষ্টা থাকে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া। এজন্য কোনো পারিশ্রমিক নেননি তিনি। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার তাগিদেই স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজ করে যাচ্ছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার এই তরুণ।
ছোটবেলা থেকেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রতি আগ্রহ ছিল মিথুনের (২৮)। তবে সেই আগ্রহকে কাজে রূপ দেওয়ার সুযোগ আসে ২০২৩ সালে। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তিনি যুক্ত হন ‘ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে। সেখানে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, ধরার কৌশল এবং নিরাপদে অবমুক্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে শুরু হয় মাঠপর্যায়ে কাজ। এরপর থেকে কয়েকশ বিষধর ও নির্বিষ সাপ উদ্ধার করেছেন মিথুন। উদ্ধার করা সাপগুলো প্রজাতিভেদে উপযোগী ও নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বা গভীর রাতেও ফোন পেলে ছুটে যান তিনি।
মিথুন বললেন, ‘সাপ দেখলেই মানুষ ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু সাপও প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। তাই সম্ভব হলে সাপ না মেরে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় ছেড়ে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।’ ‘একমাত্র সাপই এমন প্রাণী যাকে সবচেয়ে বেশি নির্বিচারে হত্যা করা হয়। অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রতিও মানুষের ক্ষোভ কাজ করে। বন্যপ্রাণী রক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনা করেই আমার এ কাজগুলো করা’— যোগ করেন তিনি।
মিথুনের এমন উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন আরও অনেক তরুণ। বাবা-মা, স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামে বসবাস করেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিথুন।
চৌগাছার স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদ হাসান সোহান বলছিলেন, ‘মাসখানেক আগে আমার দোকানের কাছে আব্দুর রহমান ডেকোরেটরের ভেতরে একটি গোখরা সাপ দেখতে পাই। সাপটি মেরে ফেলার জন্য সবাই উদ্যত হলে আমি তাদের নিষেধ করি এবং মিথুনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি এসে সাপটি উদ্ধার ও আমাদের উপস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে সেটি অবমুক্ত করেন।’





