‘আমার পেশাকে ছোট করে দেখলে আমার পথ ছোট হয় না’

আতিয়া আনিসা
নিজের পেশা ও অর্জন নিয়ে কেউ সীমিত চিন্তাভাবনা থেকে বিচার করলেও তাতে নিজের অবস্থান বদলাবে না বলে জানিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী আতিয়া আনিসা। তিনি বলেছেন, তার জীবন, পরিচয় ও অর্জনের মূল্য অন্যের ধারণা দিয়ে নির্ধারিত হবে না। তাই কেউ যদি আমার পেশাকে ছোট করে দেখে, তাতে আমার পথ ছোট হয়ে যায় না।
আজ সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি। আতিয়া আনিসা লিখেছেন, ‘সবাই সবকিছু বুঝবে এমন কোনো কথা নেই। কিছু জীবন, কিছু চিন্তাভাবনা, কিছু অর্জন এবং কিছু মানসিকতার উচ্চতা বুঝতে হলে সেই জায়গায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও থাকতে হয়। খুব ছোট বয়স থেকেই আমি নিজের পথ নিজে তৈরি করেছি। নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করেছি, নিজের স্বপ্নের জন্য কাজ করেছি, অর্জন করেছি সম্মান, ভালোবাসা ও স্বীকৃতি। জীবনে যা কিছু পেয়েছি, তার পেছনে আছে আমার পরিশ্রম, আমার সংগ্রাম এবং আমার নিজের তৈরি করা পরিচয়।
‘তাই কেউ আমাকে নিজের সীমিত চিন্তাভাবনা দিয়ে বিচার করলেই আমার অবস্থান বদলে যাবে না। কেউ আমার জীবনকে বুঝতে না পারলেও আমার জীবন ছোট হয়ে যায় না। আর কেউ আমার অর্জনের মূল্য বুঝতে না পারলে, সেই অর্জনের মূল্যও কমে যায় না। আমাকে সবাই বুঝবে এই প্রত্যাশা আমার নেই। কারণ কিছু বিষয় বোঝার জন্য শুধু চোখ থাকলেই হয় না, মানসিকতার উচ্চতাও থাকতে হয়।’ যোগ করেন গায়িকা।
নিজের পরিচয় ও মানসিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার জীবন, আমার পরিচয়, আমার অর্জন এবং আমার মান এসব কারও ধারণা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে না। আমি যেমন করে নিজেকে গড়ে তুলেছি, আমার জীবনও তেমন করেই চলবে। সব সম্মানের পথ এক নয়, আর সব প্রতিভার মূল্যও একইভাবে সবাই বুঝতে পারে না। আমাদের সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অন্য কিছু পেশাকে যেভাবে সম্মানের চোখে দেখা হয়, একজন শিল্পীর পেশাকে সবসময় সেভাবে দেখা হয় না।
নিজের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে আতিয়া আনিসা লিখেছেন, ‘গানকে অনেকেই শুধু বিনোদন হিসেবে দেখেন। অথচ একজন শিল্পীর কণ্ঠ, তার সৃষ্টিশীলতা, তার অনুভূতি এসবও আল্লাহর দেওয়া একেকটি বিশেষ নিয়ামত। আমি কখনো দাবি করি না যে আমার পথই সবচেয়ে বড় পথ। আমি শুধু বিশ্বাস করি, আল্লাহ আমাকে যে পথের জন্য তৈরি করেছেন, সেই পথেই আমার সম্মান লুকিয়ে ছিল।’
‘হয়তো আমি অন্য কোনো পেশায় যেতে পারতাম। হয়তো অন্য কোনো ক্যারিয়ারে চেষ্টা করলে সেখানেও ভালো কিছু করতে পারতাম। কিন্তু আমার কণ্ঠটা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন এটা আমার নিজের অর্জন নয়, এটা তার দেওয়া একটি বিশেষ আমানত। আর সেই আমানতকে ভালোবেসে আমি আমার পথ বেছে নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, এই পথেই খুব অল্প বয়সে এবং খুব অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে আমি এমন একটি সম্মান পেয়েছি, যা আমাদের দেশের একজন শিল্পীর জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিগুলোর একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।’ যোগ করেন আনিসা।
এই পুরস্কারকে নিজের কাছে বিশেষ অর্থবহ উল্লেখ করে আতিয়া আনিসা বলেন, ‘এই সম্মান আমার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা আমার জন্য আল্লাহর এক বিশাল রহমত এবং আমার পথের প্রতি তাঁর একটি সুন্দর ইশারা। আমি আজও খুব ছোট একজন মানুষ। শেখার, কাজ করার এবং আরও ভালো হওয়ার অনেক কিছু বাকি। কিন্তু আমার কাজ আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, সেটা আমি অস্বীকার করব না। যারা আমার সঙ্গে কাজ করেন, যারা আমার গানকে কাছ থেকে দেখেছেন, যারা আমার পথচলা জানেন তারা জানেন।’
পেশাকে ছোট করে দেখার বিষয়টি নিয়ে আতিয়া আনিসার বক্তব্য, ‘তাই কেউ যদি আমার পেশাকে ছোট করে দেখে, তাতে আমার পথ ছোট হয়ে যায় না। কেউ যদি আমার অর্জনের মূল্য না বোঝে, তাতেও সেই অর্জনের মূল্য কমে যায় না। কারণ নিজের জীবনের মূল্য বোঝার জন্য সবার স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো আল্লাহর দেওয়া একটি নিয়ামত আর সেই নিয়ামতের মাধ্যমে পাওয়া সম্মানই যথেষ্ট। আমি অহংকার করি না আমি শুধু কৃতজ্ঞ। কারণ যে কণ্ঠটা আমি নিজে সৃষ্টি করিনি, সেই কণ্ঠ দিয়েই আল্লাহ আমাকে যে পরিচয় ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি সারাজীবন আলহামদুলিল্লাহ বললেও কম হবে।’







