কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনে কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি মালবাহী কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সান্তাহার জংশন স্টেশন দিয়ে সবধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে সান্তাহার শহরের একমাত্র রেলক্রসিংয়ে ট্রেন আটকে থাকায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সান্তাহার শহরের রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সান্তাহার স্টেশনের সুইচ কেবিন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বে ৭৯৮ নম্বর নিম্নগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনে প্রবেশ করছিল। এ সময় ট্রেনটির একেবারে পেছনে থাকা একটি মালবাহী কামরা লাইনচ্যুত হয়ে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের ওপর পড়ে। এতে স্টেশন থেকে সব রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর সান্তাহার স্টেশনে রাজশাহী থেকে পার্বতীপুরগামী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস এবং আক্কেলপুর স্টেশনে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস আটকা পড়ে।
সান্তাহার স্টেশনের সুইচ কেবিনে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার আবু হানিফ জানিয়েছেন, মালবাহী কামরাটি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ায় সব লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিগন্যালের কোনো ত্রুটি ছিল না উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।
দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের কয়েকশ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। ট্রেনটির যাত্রী মিন্টু হোসেন জানিয়েছেন, তিনি একজন রোগীকে নিয়ে সান্তাহার থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ওই রোগীকে চিকিৎসকের কাছে দেখানোর কথা রয়েছে। ট্রেন আটকে পড়ায় তিনি বিপাকে পড়েছেন।
একই ট্রেনের যাত্রী নাসিমা বেগম জানিয়েছেন, তিনি কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেনে উঠেছেন। সাত ঘণ্টা বিলম্বের পর ট্রেন চলাচল শুরু হলেও আবার দুর্ঘটনার কারণে আটকে পড়েছেন। কখন ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।
সান্তাহার স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) শ্যামল চন্দ্র জানিয়েছেন, লাইনচ্যুত কামরাটি উদ্ধারে ক্যারেজ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসার পর পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু হবে।
এদিকে সান্তাহার শহরের একমাত্র রেলক্রসিংয়ের ওপর ট্রেনটি আটকে থাকায় শহরের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধারকারী ট্রেন কখন সান্তাহারে পৌঁছাবে, তা জানতে একাধিকবার স্টেশন মাস্টার খাতিজা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।






