ফিলিস্তিনে কেন ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ হুমকি দিল ইসরায়েল

ছবি: রয়টার্স
গাজায় যুদ্ধের পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীর ঘিরেও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের মতো কোনো হামলার প্রস্তুতি নিলে তাদের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ শুরু করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম তীরের রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কাঠামোকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের এই বক্তব্যের আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে এর পর থেকেই পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব হামলার ক্ষেত্রে প্রায়ই আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, অথবা খুব সামান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তার দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বললেন, ‘যদি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্য ও ইহুদি বসতিতে ৭ অক্টোবরের আদলে কোনো সন্ত্রাসী হামলা শুরু করে, অথবা আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে তারা এমন হামলা শুরু করতে যাচ্ছে—তাহলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি আইডিএফকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছি।’
কাৎজ বলেছেন, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হবে পশ্চিম তীরের রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ‘শীর্ষ নেতৃত্ব ও কাঠামো’। একই সঙ্গে ওই ভূখণ্ডের ‘সব সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ও এর লক্ষ্য হবে।
তিনি বলেছেন, এর মধ্যে থাকবে ‘শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হত্যা’ এবং ‘যেসব শহর ও গ্রাম থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া’। ওই এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতিও থাকবে বলে জানান তিনি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে এক ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীকে ছুরিকাঘাত করা এক ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে তারা গুলি করে হত্যা করেছে।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জরুরি সেবা জানিয়েছে, ২০-এর কোঠায় বয়স এমন এক ব্যক্তিকে একাধিক ছুরিকাঘাতের জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা মাঝারি থেকে গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
হামলাকারীকে হত্যা করা সেনাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীই লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’
এক বিবৃতিতে তিনি বললেন, ‘আমরা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে যাব, যারা তাদের পাঠায় তাদের খুঁজে বের করব এবং জুডিয়া ও সামারিয়ায় সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করব।’ পশ্চিম তীরকে বোঝাতে বাইবেলে ব্যবহৃত নাম ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ ব্যবহার করেন তিনি।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস ‘প্রতিরোধ আরও জোরদার করার এবং শত্রু সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয় বলে জানিয়েছে এএফপি। ইসরায়েলের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। হামাসের যোদ্ধারা আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৪৪ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন।
এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৬৫১ জন নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাসের কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হলেও এর দেওয়া পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
সূত্র: এএফপি






