বালোগুন বিতর্কে ফিফার কাছে জবাব চাইল বেলজিয়াম

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। অস্বাভাবিক ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনেও সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বেলজিয়াম।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুনকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার কাছে জবাব চেয়েছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আগের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ড। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলার কথা ছিল না।
তবে ফিফা তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে নামেন বালোগুন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ফিফার এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং আরবিএফএও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে।
সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে বেলজিয়াম। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরবিএফএর সভাপতি পাসকেল ভান ডামে, ‘ঘটনার দুই মাস পরও আমাদের প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর মেলেনি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান প্রক্রিয়ায় কোথায় উন্নতি করা যায় সেটিও আমরা খতিয়ে দেখতে চাই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন স্পষ্ট, ধারাবাহিক ও কার্যকরভাবে সামলানো যায়।’
বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। টুর্নামেন্টে তার লাল কার্ডটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৮৯তম। কিন্তু সেই লাল কার্ডের পরও নিষেধাজ্ঞা না পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাত্র দ্বিতীয়। এর আগে ১৯৬২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গারিঞ্চা একইভাবে পরবর্তী ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছিলেন। ওই বিশ্বকাপে আর কোনো খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন খবর আসে বালোগুনের শাস্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সরাসরি ফিফার কাছে তদবির করেছিলেন। ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও ফিফা শুধু তাদের ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর ধারা উল্লেখ করে। ওই ধারায় কোনো শাস্তির পুরোটা বা আংশিক বাস্তবায়ন স্থগিত করার ক্ষমতা ফিফার রয়েছে।





