আঙিনার সাফ নিয়ে তপু-মোরসালিনদের ভাবনা

ছবি: আগামীর সময়
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের সব আলো কেড়ে নিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ থমাস ডুলি ও দুই ফুটবলার তপু বর্মণ এবং শেখ মোরসালিন। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকা হবে এই টুর্নামেন্ট। মর্যাদার আসরে বাংলাদেশ খেলবে দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে। নতুন কোচের একটাই লক্ষ্য— দলকে বিজয়ী মানসিকতায় গড়ে তোলা। কোচের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কাজটা করতে হবে তপু-মোরসালিনদের। দেশকে একটা শিরোপা এনে দেওয়ার প্রত্যয় তাদের কণ্ঠেও।
গত জুনে সান মারিনো গিয়ে ইউরোপিয়ান দলটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সেটি ছিল থমাস ডুলির বাংলাদেশের হয়ে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। ১৯ মিনিটে তপু বর্মণ গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার পর সান মারিনো ৩১ মিনিটে সমতায় ফিরেছিল। তবে ৮৬ মিনিটে তপু দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে দারুণ জয় উপহার দেন। সেন্টারব্যাক হলেও এর মধ্যেই লাল-সবুজ জার্সিতে আট গোল করে ফেলেছেন তপু। তাই প্রশ্ন ছিল নিজেকে ফরোয়ার্ড ভাবতে শুরু করেছেন কিনা? সাফেও গোল করার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী? হেসে জবাব দিলেন অভিজ্ঞ তপু, ‘কোচ এরমধ্যেই বলেছেন, আমি ডিফেন্ডার। আমার কাজ হলো গোল সেভ করা। মোরসালিনের কাজ স্কোর করা। আসলে কখনো কখনো ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে আমি উপরে যাই, চেষ্টা করি দলকে সহায়তা করার। সবকিছুই আসলে খেলার পরিকল্পনার অংশ। কোচের সিদ্ধান্তে আমি আমার পজিশনটা ক্রিয়েট করি। এই চেষ্টা আমি করবো। যদি প্রয়োজন হয়, দলকে জেতানোর সব চেষ্টাই আমি করবো।’
ঘরের মাঠে সাফ জয়ের ব্যপারে ভীষণ আশাবাদী তপু। তবে চারটি সাফের অভিজ্ঞতায় এটাও জানেন, এই শিরোপা জেতা কতটা কঠিন, ‘আমার কাছে মনে হয় সাফ সবসময় কঠিন। টুর্নামেন্টে আপনাকে খেলে জিততে হবে এবং আপনার পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে। এবার আমাদের দেশের মাটিতে খেলা। ২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি। তাই আবার শিরোপা জেতা আমাদের সবার একমাত্র লক্ষ্য। আমাদের দর্শকরা..., সমগ্র জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আমাদের দায়িত্বটা অনেক বড়ো। আমরা মাঠে প্রমাণ দিতে চাই যে আমরা সবার চেয়ে ভালো এবং যোগ্য। পরিচিত মাঠে খেলার সুবিধা তো অবশ্যই আছে। তবে আমাদের অতি আত্মবিশ্বাস ঈহলে চলবে না। একটা ইতিবাচক আবহে আমরা টুর্নামেন্টটা খেলতে চাই। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চাই।’
হামজা, শমিতসহ বেশ ক’জন বংশোদ্ভূত ফুটবলার এখন জাতীয় দলে নিয়মিত খেলছেন। সচরাচর এদের সঙ্গে বেশি সময় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয় না স্থানীয়দের। তবে এটাকে বড় কোনো সমস্যা মানছেন না তপু, ‘জাতীয় দলে সচরাচর ১ বা ২ সপ্তাহের ক্যাম্প থাকে। দেখা যাচ্ছে অনেকেই এক সপ্তাহ আগে চলে আসছে। তাছাড়া আমরা তাদের সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে খেলছি। জানি তারা কে কেমন। তাই এখন আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। বরং তারা (হামজারা) যখন আসে, আমরা আরো বেশি উজ্জীবিত হই।’
থমাস ডুলি আদর্শ ধারণ করে নিজেদের বিজয়ী মানসিকতায় গড়ে তোলার কথা বলেছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন, ‘আমাদের কোচ সবসময় জিততে চান। এটাই আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। টিম মিটিং হোক বা সব জায়গায়, কোচ সবসময় জিততে চান। আমরাও চাই কোচের মতো করেই ভাবতে। আমাদের যেভাবেই হোক জিততে হবে। (সাফ ঘরের মাঠে) এটা আমি মনে করি আমাদের জন্য একটা বিশাল সুযোগ। অনেক আগে আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এর মধ্যে আর হতে পারিনি। এই সুযোগ আমরা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দিতে চাই না। তবে একই সঙ্গে আমরা ওভার এক্সাইটেড হতে চাই না বা ওভার কনফিডেন্ট হতে চাই না। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে চাই এবং আমরা আশা করছি আমরা এই সাফ শিরোপাটা বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে পারবো।’




