যত ভুলের মাশুল গুনে বার্সা ছাড়তে হলো আরাউহোকে

বার্সেলোনার অধিনায়ক থেকে হঠাৎ করেই ধারে লিভারপুলে পাড়ি জমিয়েছেন উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার রোনালদ আরাউহো। এক মৌসুমের ধারে অ্যানফিল্ডে যোগ দিলেও ৫ কোটি ৫৫ লাখ ইউরোতে তাকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ রেখেছে লিভারপুল। ন্যু ক্যাম্পে দুইশর বেশি ম্যাচ খেলা এবং দলের অন্যতম ভরসা থেকে হঠাৎ কেন বার্সেলোনায় তার এই পতন ঘটল—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বার্সেলোনায় আরাউহোর পথচলায় কোথায় ছন্দপতন ঘটেছিল। ২০১৮ সালে উরুগুয়ের ক্লাব বোস্টন রিভার থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন আরাউহো। ২০১৯ সালের অক্টোবরে মূল দলে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে তিনি কাতালান ক্লাবটির রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদেহী এই ডিফেন্ডার তার গতি, শক্তি ও শারীরিক সামর্থ্য দিয়ে ডিফেন্সের দেয়াল হয়ে উঠেছিলেন।
গত মৌসুমে হান্সি ফ্লিকের অধীনে অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন আরাউহো। এত সাফল্যের পরও বার্সেলোনার হয়ে মাঠের কিছু ঘটনা তার দলবদলের নেপথ্যের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হ্যান্সি ফ্লিক সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, ‘সে খুব ভালো মানুষ এবং ব্যতিক্রমী একজন খেলোয়াড়। তবে আমাদের খেলার ধরন কিছুটা আলাদা।’ ফ্লিক আরও ইঙ্গিত দেন যে, অতীতের কিছু ঘটনা আরাউহোর মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
যে ভুলগুলো বার্সা ছাড়তে বাধ্য করল আরাউহোকে:
১. চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হাই-প্রোফাইল লাল কার্ড ও ভুল: বার্সেলোনা ক্যারিয়ারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আরাউহোর বড় ভুলগুলো তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে তার লাল কার্ড ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যা দলের বিদায়ের অন্যতম কারণ।
২. ভুলের পুনরাবৃত্তি ও সেমিফাইনালের হতাশা: ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচেও মারাত্মক ভুলের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। যদিও সে সময় কোচ হ্যান্সি ফ্লিক প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
৩. চেলসি ম্যাচ ও মানসিক অবসাদ: গত মৌসুমে চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। ওই ম্যাচে মার্ক কুকুরেলাকে ফাউল করে প্রথমার্ধেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আরাউহো। এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ পর তাকে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে এবং আবেগ সামলাতে ছুটি দেওয়া হয়। পেশাদার সহায়তা নিয়ে এক মাস পর তিনি ফিরলেও শুরুর একাদশে সুযোগ কমে গিয়েছিল।
এই ঘটনাগুলো ছাড়াও বার্সেলোনার খেলার ধরনের সাথে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে না পারা এবং মানসিক চাপ সামলে নতুন শুরুর তাগিদ থেকেই মূলত স্প্যানিশ ক্লাব ছেড়ে প্রিমিয়ার লিগে পাড়ি জমিয়েছেন এই উরুগুইয়ান তারকা। এখন দেখার, নতুন গন্তব্যে তিনি নিজেকে নতুন করে চেনাতে পারেন কিনা।






