ডুলির ক্যাম্পে সোয়া ছয় ফুটের গোলরক্ষক

নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে বুধবার সকালে একটি ছবি পোস্ট করে নবাগত সাইফ কেরাওয়ালাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। প্রস্তুতি ক্যাম্পে ডাক পাওয়া গোলরক্ষকদের সঙ্গে সেই ছবির ক্যাপশনে জামাল লিখেছেন, ‘গোলরক্ষক ও আমাদের নতুন সতীর্থ সাইফ কেরাওয়ালার সঙ্গে একফ্রেমে আমরা, যে ওয়াশিংটন থেকে এসেছে। তোমাকে স্বাগতম।’
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ২৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক সাইফের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে। বাবা বাংলাদেশি ও মা মার্কিন। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার আকাঙ্ক্ষা ছিল তার। সেই পথটা গড়ে দিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। মঙ্গলবার ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন কোচের আগ্রহেই। যদিও তার ক্যাম্পে আসা নিয়ে বাফুফে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
ফিফা এশিয়ান কাপ সামনে রেখে চলছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় থমাস ডুলি ব্যস্ত স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে। এই ক্যাম্পে পরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সম্প্রতি শেফিল্ড ইউনাইটেডে নাম লেখানো হামজা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় সারির লিগ দল নিউ ইয়র্ক কসমসের সঙ্গে চুক্তি করা শামিত সোম, আমিরাতের দ্বিতীয় বিভাগের দল রিহাম আল শাহরায় খেলা জায়ান আহমেদ, ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম ও পারো এফসির হয়ে ভুটান লিগে খেলা তারিক কাজীর।
এর মধ্যেই ডুলি পরখ করে দেখতে চাইছেন নতুন কিছু বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে। যাদের অন্যতম সাইফ কেরাওয়ালা ও যুক্তরাজ্য বংশোদ্ভূত ফারহান আলী ওয়াহিদ। বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব জানালেন, কোচের ইচ্ছাতেই ক্যাম্পে এসেছেন সাইফ— ‘সান মারিনো থেকে ম্যাচ খেলে আসার পর কোচ স্থানীয় ফুটবলারদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদেরও তথ্য সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে সাইফ কেরাওয়ালাকে ক্যাম্পে যোগ দিতে বলেছেন কাছ থেকে দেখতে চান বলেই।’
ফারহান সম্প্রতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ফুলহ্যামে যোগ দিয়েছেন। ১৯ বছরের লেফট উইঙ্গার অবশ্য বর্তমানে ধারে পঞ্চম টায়ারের দল বোরহ্যাম উডে খেলছেন। ঠিক কবে তিনি আসবেন, তা অবশ্য জানা যায়নি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের হয়ে বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিয়ে কাজ করা সহসভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে কথা হয় সাইফের বিষয়ে। তার ক্যাম্পে সুযোগ পাওয়া নিয়ে অন্ধকারে আছেন তিনিও— ‘আমি ঠিক জানি না কোন মাধ্যমে সে ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছে। তবে যেভাবেই হোক, সে যদি ভালো হয়, সেটা হবে জাতীয় দলের জন্যই সুসংবাদ।’ ফাহাদ আরও জানিয়েছেন, নভেম্বরে সাফের আগে কমপক্ষে আরও চার থেকে পাঁচজন বংশোদ্ভূত ফুটবলার দেখা যেতে পারে ডুলির ক্যাম্পে।
সাইফ আসায় ডুলির পাঠশালায় এখন আছেন চার গোলরক্ষক। মিতুল, জিকো, সুজনদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন কি না ওয়াশিংটন অ্যাথলেটিক এফসির গোলরক্ষক, সেটাই দেখার বিষয়।





