তীব্র সমালোচনার মাঝেই নির্বাচন করার ঘোষণা ইনফান্তিনোর

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি নিয়ে তীব্র বিতর্ক, উয়েফার আইনি পদক্ষেপ এবং পদত্যাগের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেও দমে যাচ্ছেন না জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য ২০২৭ সালের নির্বাচনে লড়বেন তিনি।
সম্প্রতি পোল্যান্ডে চলমান অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের মঞ্চে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ বা সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ফিফা সভাপতি। স্কাই নিউজকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘এ বিষয়ে বলার মতো অনেক কিছু আছে, তবে বলার মতো সঠিক সময় এবং স্থান এটি নয়। আজ বা এখানে নয়।’
এরই মধ্যে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গত এপ্রিলে ইনফান্তিনো যে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগামী বছরের মার্চ মাসে মরক্কোর রাবাতে ফিফার ৭৭তম কংগ্রেসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা এই পদের জন্য নিজেদের মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এপ্রিলে ফিফা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ২০২৭ সালে পুনঃনির্বাচনের জন্য দাঁড়াবেন। অবশ্যই সেই সিদ্ধান্তে কোনো বদল আসেনি। ইনফান্তিনো পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়বেন।’
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা সামনে আনার পরই বিপাকে পড়েন ইনফান্তিনো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মীয় জশ কুশনারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’-এর কাছে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব পানির দরে বিক্রি করার ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ তুলে সরব হয় ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা)।
ফিফার এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে উয়েফা ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়, তবুও আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও ভুয়া চুক্তির আশঙ্কায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সুইস আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের এই সংস্থাটি। উয়েফার পাশাপাশি কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এই বিতর্কিত পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মতো দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের ওপর থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখেও ফিফার অন্দরে এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান সভাপতি। আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ), দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল (কনমেবল) এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিক সৌদি আরব প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পক্ষে নিজেদের সমর্থন বজায় রেখেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মাঠে নামবেন কি না এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টগ্লিয়ানির মতো কেউ শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে লড়তে আসেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







