রিয়ালে ট্রফিহীন ছিলেন রোনালদো-জিদানও

টানা দুই মৌসুম ট্রফিহীন রিয়াল। ছবি: সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদ এবং ট্রফি- দুটি যেন একে ওপরের পরিপূরক। ১২৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ক্লাবটি জিতেছে রেকর্ড ১৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ৩৬টি লা লিগা। সব টুর্নামেন্টেই তারা থাকে ফেভারিটদের তালিকায়।
সেই দলই কিনা টানা দুই মৌসুম রইল ট্রফিহীন! গত মৌসুমে কার্লো আনচেলত্তির রিয়াল জিততে পারেনি কোনো ট্রফি। দুই দফা কোচ বদলে, নতুন মৌসুমেও ধরা দিল না কোনো শিরোপা।
এল ক্লাসিকোতে ২-০ গোলে হারার পর লা লিগার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে রিয়ালকে। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। কোপা দেল রেতে জানুয়ারিতেই আলবাসেতের কাছে হেরে বাদ পড়তে হয়েছিল শেষ ষোলোতে।
এই শতাব্দীতে আরও পাঁচবার এমন দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকা যেমন ব্যর্থ ছিলেন তেমনি শিরোপা জেতাতে পারেননি অন্যতম সফল কোচ জিনেদিন জিদানও।
২০০৪-২০০৫
স্পেনের শীর্ষ লিগে রিয়ালের ৭০তম অভিযান শেষ হয়েছিল চরম হতাশায়। সেবার তাদের অবস্থা এতটা এলোমেলো ছিলো যে কয়েক মাসের ব্যবধানে ৩ বার কোচ বদলানো হয়েছিলো। তিনজন কোচ — হোসে আন্তোনিও কামাচো, মারিয়ানো গার্সিয়া রেমোন ও ভান্ডেরলেই লুক্সেমবুর্গো দলের হাল ধরলেও কেউই সফল হননি। লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় হওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় জুভেন্টাসের কাছে এবং কোপা দেল রেতে ভায়াদোলিদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়।
২০০৫-২০০৬
পরের মৌসুমেও একই দুর্দশা। আবারও লিগে বার্সেলোনার পেছনে দ্বিতীয়। লুক্সেমবুর্গো ডিসেম্বরেই বরখাস্ত হন, দায়িত্ব নেন হুয়ান রামোন লোপেস। চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে থিয়েরি অঁরির গোলে শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হয়। কোপা দেল রেতে রিয়াল জারাগোসার কাছে ডিয়েগো মিলিতোর হ্যাটট্রিকসহ ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে সেমিফাইনালেই ছিটকে পড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম পরপর দুটি শিরোপাশূন্য মৌসুম পার করে মাদ্রিদ।
২০০৯-২০১০
মাদ্রিদে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর প্রথম মৌসুমটা দুঃস্বপ্নের মতো গিয়েছিলো। মানুয়েল পেলেগ্রিনির অধীনে মাদ্রিদ লিগে ৯৬ পয়েন্ট তুলে ১০২ গোল করেও পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার কাছে হার মানে। আর কাপে তৃতীয় বিভাগের দল আলকোর্কনের কাছে ৪-০ গোলে লজ্জাজনক পরাজয় ইতিহাসে 'আলকোর্কোনাজো' নামে কুখ্যাত হয়ে আছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও শেষ ষোলোয় লিঁওর কাছে বিদায়।
২০২০-২০২১
প্রথম মেয়াদে ঈর্ষণীয় সাফল্যের পর জিনেদিন জিদানের দ্বিতীয় অধ্যায় শেষ হয় ব্যর্থতায়। করোনা মহামারির কঠিন সময়ে সান্তিয়াগো বের্নাবেউর সংস্কারকাজের কারণে পুরো মৌসুম আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে খেলতে হয় দলকে।
শেষ ১৮ ম্যাচে অপরাজিত থেকেও লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে রানার্স-আপ। কোপা দেল রেতে আলকোয়ানো, সুপার কোপায় আতলেতিক বিলবাও এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে চেলসির কাছে পরাজয় — সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ শূন্য হাতে মৌসুম শেষ করতে হয় জিদানের দলকে।
২০২৪-২৫
গত মৌসুমেও লিগে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনাল এবং কোপা দেল রের ফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সার কাছে হারতে হয়েছিলো তাদের।






