থমাস ডুলি
হামজার মত খেলোয়াড়দের নতুন করে শেখাতে হয় না
- আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলার সুযোগটা এসেছে হঠাৎ করেই। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে কিংস অ্যারেনায় কঠোর অনুশীলন করছেন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। আজ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের প্রস্তুতি আর লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন কোচ থমাস ডুলি। তুলে ধরা হল এর চুম্বক অংশ।

সংগৃহীত ছবি
প্রশ্ন : আপনার অনুশীলন সেশনের এটি ৯ নম্বর দিন। এই ৯ দিনের অভিজ্ঞতা কেমন?
থমাস ডুলি : এ পর্যন্ত ট্রেনিং নিয়ে আমি খুবই খুশি। আমরা দিনে দু'বার করে কয়েকবার অনুশীলন করেছি। কারণ স্বাভাবিকভাবেই, আপনারা যেমনটা জানেন, সান মারিনো থেকে ফেরার পর থেকে ফুটবলারদের বেশিরভাগই কিছু করেনি।
প্রশ্ন : সেই ম্যাচের পর লম্বা একটা সময় কেটে গেছে।
থমাস ডুলি: প্রায় দুই মাসের মতো সময় কেটে গেছে। আর দুই মাস কিছু না করার পর হুট করে ট্রেনিং শুরু করা খুবই কঠিন। তাই আমি আনন্দিত যে আমরা জাতীয় দলকে নিয়ে আগেই শুরু করতে পেরেছি, কারণ বাংলাদেশে তখনো লিগ শুরু হয়নি। আর লিগ শুরুর একটি তারিখ নির্ধারিত ছিল, যার ফলে লিগ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে দিনে একবার করে খেলোয়াড়দের ট্রেনিং শুরু হতো। সেটি কিন্তু খুবই বিপজ্জনক হতো। মানে, আপনি যদি বড় দেশগুলোর দিকে তাকান, তারা ছয় সপ্তাহের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি পায়; যার প্রথম সপ্তাহে দিনে তিনটি, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দিনে দুটি এবং তার পরে সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিন দিন করে দিনে দুটি করে সেশন থাকে। তারপরেও তারা বুন্দেসলিগা বা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করার জন্য শতভাগ ফিট থাকে না।
প্রশ্ন : আসিয়ান কাপ নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী?
থমাস ডুলি: আসিয়ান কাপে আমার লক্ষ্য? মানে, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যে দলগুলোর বিপক্ষে খেলব, তারা র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে কতটা এগিয়ে? সিঙ্গাপুর ৫০ ধাপ এগিয়ে, মালয়েশিয়া ৬০ ধাপ এগিয়ে, আর ইন্দোনেশিয়া তো আছেই... নিশ্চিতভাবেই এটি অত্যন্ত কঠিন। আমি আমার খেলোয়াড়দের বলি, আমরা যখন এমন কোনো দলের বিপক্ষে খেলি যারা র্যাংকিংয়ে আমাদের পেছনে আছে, আমি হারতে চাই না। আমাদের এমনভাবে মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা আমাদের বিপক্ষে গোল করতে না পারে। কিন্তু আমাদের পেছনে থাকা দলের কাছে হেরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়াও একই কথা ভাবছে। তাই আমাদের জন্য এটি খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে আপনারা সবাই তো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলা দেখতে চান। তাই আসিয়ানে খেলতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ প্রতিযোগিতা। আমাদের ইতিবাচক থেকে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা নিংড়ে নিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে আমরাও এই আঞ্চলিক ফুটবলের যোগ্য।
প্রশ্ন : আজকের সেশনে খেলোয়াড়দের ইনজুরি নিয়ে কোনো আপডেট আছে?
থমাস ডুলি: হ্যাঁ, সোহেল আর তপু—এই দুজনের সামান্য ইনজুরি রয়েছে। সোহেলের কিছুটা সমস্যা ছিল, ও দু-একদিন একটু অসুস্থও ছিল, তবে এখন একদম ঠিক আছে। তপুরও কিছুটা টান রয়েছে। তাই ওকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, আজ এবং কাল ও অনুশীলন করবে না। রিকভারির জন্য ওকে দুদিন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আর জামালের গ্রোয়েনে ছোট একটা টিয়ার (টান) রয়েছে। তাকে নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এটি বাড়লে ও কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাবে। আর আমরা অবশ্যই তাকে দলে চাই।
প্রশ্ন : ট্রায়ালে কিছু নতুন খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স কেমন এবং আপনি কি সন্তুষ্ট?
থমাস ডুলি: দেখুন, গোলরক্ষকদের সামলানোর জন্য আমাদের আলাদা গোলকিপিং কোচ রয়েছে, কারণ গোলরক্ষকরা সাধারণ ফুটবলারদের চেয়ে আলাদা ধাঁচের হয়। তাদের বিশেষ ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন। তাই আমাদের গোলরক্ষক কোচ ব্রায়ান ওদের বিষয়গুলো দেখছে। আমি ফিল্ড প্লেয়ারদের তৈরি করায় মনোযোগ দিচ্ছি। তবে আমার সঙ্গে গোলকিপিং কোচের নিয়মিত কথা হয়। বর্তমানে থাকা ৫ জন গোলরক্ষকই প্রায় সমমানের। আর এখানেই চূড়ান্ত ৩-৪ জন বাছাই করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জাকার্তা যাওয়ার আগে আরও কিছুদিন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা খেলোয়াড়দের পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি যে, নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে উন্নতি করে দেখাক যে তারা মূল দলে থাকার যোগ্য।
প্রশ্ন : ট্রায়াল এবং অনুশীলন সেশন—এই দুটি বিষয় থেকে কেউ কি আপনাকে আলাদাভাবে মুগ্ধ করেছে?
থমাস ডুলি: বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবার চমৎকার পারফর্ম করছে, যা আগের বার দেখিনি। কারণ প্রথমবার এসে মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ৪০ জন নতুন মুখ দেখে দল বাছাই করা কঠিন ছিল। কখনো খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস থাকে না বা হালকা ইনজুরি থাকে। যারা যুব দল থেকে বা নতুন করে ফিরে এসেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ ভালো করছে। ফুটবল মানেই পারফরম্যান্স, কে কেন দলে আছে তা কোচিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হয়। আমরা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে ম্যাচ জিততে চাই, যাতে সমর্থকরা খুশি হতে পারে।
প্রশ্ন : আপনি কি বাংলাদেশ ও ভুটানের ম্যাচটি দেখেছেন? সেখানে কি সম্ভাবনা আছে এমন কোনো খেলোয়াড় পেয়েছেন?
থমাস ডুলি: আমি শুধু প্রথম ম্যাচটি দেখতে পেরেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচের সময় আমাদের টিম মিটিং থাকায় দেখা হয়নি, তবে আজ রাতে আমরা ফুটেজ দেখে নেব। জাইদান এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আমি দলে দেখতে চাই। ও এখন দলের সঙ্গে আছে, আমি ওকে প্রথম দলের অভিজ্ঞতা দিতে চাই। ও কেমন খেলে তার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে ও কীভাবে জাতীয় দলের অংশ হবে।
প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু হামজা চৌধুরীর মতো যারা এখন উপস্থিত নেই, তাদের জন্য আপনার কী পরিকল্পনা?
থমাস ডুলি: দেখুন, মানুষের বোঝা উচিত যে ফিফা উইন্ডোর কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। ক্লাবগুলো ফিফা উইন্ডোর আগে খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য নয়, আর সেই উইন্ডো থাকে মাত্র ১০ দিনের। ফিফা ডে যদি ২১ তারিখ হয়, ক্লাব ওকে ২১ তারিখেই ছাড়বে। ও হয়তো ২২ তারিখ পৌঁছাবে আর ম্যাচ ২৪ তারিখ। ভালো দিক হলো হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়রা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। আমাদের তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। ও আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন লিডার। এছাড়া শমিত, তারিক, জায়ানরাও মানসিকভাবে ও টেকনিক্যালি বেশ পরিপক্ক। খেলোয়াড়রা আরও আগে আসলে নিশ্চিতভাবেই ভালো হতো, কিন্তু ক্লাবের বাধ্যবাধকতার কারণে তা সম্ভব হয় না। অনেক ধন্যবাদ!






