মরিনহোকে ফেরানো রিয়ালের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে?

‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত কোচ হোসে মরিনহো।
কঠিন সংকটকাল অতিক্রম করছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। যখনই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বিপদ ঘনিয়ে আসে, প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ অবধারিতভাবেই একটি নাম জপতে শুরু করেন— হোসে মরিনহো। টানা দ্বিতীয় মৌসুম বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ করতে যাওয়া রিয়াল আবারও তাদের সাবেক এই ‘স্পেশাল ওয়ান’ কোচের দিকে ঝুঁকছে, যা অনেক ফুটবল বোদ্ধার মতেই হবে এক চরম বিপর্যয়।
ইতিহাস বলছে, ২০১০ সালে যখন বার্সেলোনার দাপটে রিয়াল নাজেহাল ছিল, তখন মরিনহোই পেরেজকে উদ্ধার করেছিলেন। ২০১১ সালের কোপা দেল রে এবং ২০১২ সালের লা লিগা জিতে বার্সার রাজত্বে হানা দিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ কোচ। তবে ২০১৩ সালে যখন তিনি ক্লাব ছাড়েন, তখন ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম— সবার সঙ্গেই তার সম্পর্ক বিষিয়ে উঠেছিল।
পেরেজ হয়তো ২০১০ সালের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজছেন। বর্তমানেও বার্সেলোনার কাছে পাত্তা পাচ্ছে না রিয়াল। তাই পেরেজ এখন মরিনহোকে ফেরাতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরিনহো এখন আর সেই আগের ‘স্পেশাল ওয়ান’ নেই। ১১ বছরে তিনি কোনো লিগ শিরোপা জেতেননি। তার সর্বশেষ সাফল্য ২০২২ সালের কনফারেন্স লিগ, যা রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের মানের সঙ্গে বড্ড বেমানান।
রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক
সাফল্যের কারিগর ছিলেন কার্লো আনচেলত্তি ও জিনেদিন জিদান। তারা দুজনই ড্রেসিংরুম
সামলাতে পারদর্শী ছিলেন। হইচই না করে কৌশলে তারকাবহুল দলটিকে সামলাতেন তারা। অন্যদিকে
মরিনহোর স্বভাবই হলো আগ্রাসন ও সংঘাত। এমবাপ্পের মতো তারকায় ঠাসা বর্তমান স্কোয়াডে
মরিনহোর এই আক্রমণাত্মক ব্যক্তিত্ব উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সাবেক রিয়াল অধিনায়ক সোর্হিও রামোস একবার বলেছিলেন, ‘রিয়ালে ট্যাকটিক্যাল জ্ঞানের চেয়ে ড্রেসিংরুম সামলানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ অথচ মরিনহো তার প্রথম মেয়াদে রামোস ও ইকার ক্যাসিয়াসের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গেই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। মরিনহোর বিদায়কে পেরেজ যতই ‘পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দায়িত্বে অব্যাহতি’ বলে দাবি করুন না কেন, আসলে সেটি ছিল এক তিক্ত বিচ্ছেদ।
এসব কারণে পেরেজের এই মরিনহো-প্রীতি
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। এটাকে পেরেজের ‘হতাশা’ এবং ‘বিপথগামী পরিকল্পনা’ হিসেবেই মনে করছেন তারা। তা ছাড়া, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি সবসময় সুখকর হয়
না। তাই মরিনহোকে ফিরিয়ে আনা রিয়ালের জন্য হতে পারে এক
‘টাইম বোমা’র মতো।
-গোল ডটকম অবলম্বনে






