মোহাম্মদ রিজওয়ান
আমাকে অনলাইন জুয়ার ঘটনায় জড়ানো হয়েছে

পাকিস্তানের ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন নাটক। অনলাইন জুয়া ও ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তাকে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়েছিল পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ)। সেসব প্রশ্নের জবাব দিয়ে এই তদন্তের এখতিয়ার এবং ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিজওয়ান।
‘সামা টিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিজওয়ান তদন্তের মূল ভিত্তি এবং তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ চাওয়ার পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটকে (এসিইউ) দেওয়া হয়নি। রিজওয়ান তার জবাবে বলেছেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি আমার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে পাকিস্তান দলের সেবা করেছি।’
নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাকে জড়ানোয় বিস্ময় প্রকাশ করে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেছেন, ‘আমাকে অনলাইন জুয়ার ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিস্তারিত আমি জানতে চাই। তদন্তে সহায়তা পেতে হলে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সম্পূর্ণ বিবরণ আমাকে প্রদান করতে হবে।’
এর আগে এনসিসিআইএর এখতিয়ার এবং নোটিসের ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ রিজওয়ান লাহোর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শুনানির পর আদালত তার সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। রিজওয়ান বলেছেন, ‘একজন বর্তমান ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে এসিইউতে রিপোর্ট করা হয়নি। এই ধরনের একটি মামলা নিয়ে এনসিসিআইএ কেন তদন্ত পরিচালনা করছে, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।’
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর থেকেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলের শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই খেলোয়াড়দের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছিল।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনসিসিআইএ অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক হিসাব নিয়ে তদন্ত করছে। ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন এবং এর আগের আর্থিক লেনদেনগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





