ফোন জব্দ
পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের ফিক্সিং গুঞ্জন!

ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্ট হেরে সিরিজ খুঁইয়েছে পাকিস্তান। এরপরই দলটিতে ঘটে চলেছে একের পর এক নাটকীয় ও নজিরবিহীন ঘটনা। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট হেরে স্কোয়াড থেকে হঠাৎ করেই সাতজন খেলোয়াড় এবং দুই কোচকে মাঝপথেই দেশে ফেরায় পিসিবি। এবার শোনা যাচ্ছে, ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে, যা উসকে দিয়েছে ২০১০ সালে আসিফ-আমিরদের সেই স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির স্মৃতি।
সিরিজ হারের প্রেক্ষাপটে দল ও কোচিং স্টাফ বদলে ফেলার তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। এর মাঝেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘৩৬৫ নিউজ’ জানিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টের আগে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও ডিভাইস নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পিসিবি। সিরিজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ডিভাইসগুলো বোর্ডের কাস্টডিতেই থাকবে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
কোন কোন খেলোয়াড়ের ফোন নেওয়া হয়েছে বা সুনির্দিষ্টভাবে কী কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোবাইল ফোন জব্দ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের কোনো প্রতিবাদও করেনি পিসিবি। এসব কারণে পিসিবির এই আকস্মিক পদক্ষেপে দলের অন্দরে বড় কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর সন্দেহের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। পিসিবির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আচরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত শুরু করার কথা জানানো হয়েছে, যা গুঞ্জনের পালে হাওয়া দিয়েছে। বিশেষ করে ওপেনার ইমাম-উল-হাকের ইনজুরি নিয়ে পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদের প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা এবং খেলোয়াড়দের যোগাযোগের মাধ্যমগুলো জব্দ করার ঘটনা পুরো বিষয়টি কেবল সাধারণ ক্রিকেটীয় পরাজয়ে আটকে রাখেনি।
সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচের দিনে স্টেডিয়ামের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকে। আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, ক্রিকেটার ও দলের অন্য কর্মকর্তারা ড্রেসিংরুমসহ নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন না। ওইসব এলাকায় প্রবেশের আগে খেলোয়াড়দের ডিভাইসগুলো নিরাপদ স্থানে রেখে আসতে হয়। কিন্তু ম্যাচের কয়েকদিন আগেই সবার ফোন জব্দ করার এমন নজির নেই।
অনেকে পিসিবির এসব পদক্ষেপের মাঝে খুঁজে ফিরছেন ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টের সেই স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারির স্মৃতি। সেবার লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের নির্দিষ্ট সময়ে ইচ্ছাকৃত নো-বল করার ঘটনায় জড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ এবং তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাট। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর এক স্টিং অপারেশনে ফাঁস হওয়া সেই ঘটনায় বিশ্ব ক্রিকেটে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে লন্ডনের আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জেল খেটেছিলেন ওই তিন ক্রিকেটার এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে।
বর্তমান ইংল্যান্ড সফরেও একইভাবে মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক, আকস্মিক খেলোয়াড় বদল এবং ফোন জব্দ করার মতো কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সেই পুরনো দুঃস্বপ্নই যেন নতুন করে তাড়া করে ফিরছে পাকিস্তান ক্রিকেটকে। এজবাস্টনে সিরিজের শেষ টেস্ট মাঠে গড়ানোর আগে পিসিবির এসব নজিরবিহীন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দলকে কোন গন্তব্য নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।









