ট্রাম্পের লড়াই নামের বড়াই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এক ঘণ্টায় ইরান নিয়ে সাত সাতটি পোস্ট। কখনো এআই নির্মিত ছবি, তো কখনো নিজেরই অবয়ব ব্যবহার করে মানচিত্রে বসিয়ে কটাক্ষ। ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন ক্রমেই আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে। গত রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের দুর্বল হয়ে পড়া মুদ্রা, কমে যাওয়া তেল রপ্তানি এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চাইলেন, ইরান ক্রমেই বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে পড়েছে।
পোস্টের এই সিরিজে ট্রাম্প প্রথমে কোনো পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি প্রতীকী ছবি শেয়ার করেন। ইরানের একটি মানচিত্রের ওপর তার নিজের মুখ বসানো ছিল সেই ছবিতে। সংঘাত ঘিরে তার ক্রমেই ব্যক্তিগত হয়ে ওঠা বার্তার আরও একটি প্রতিফলন এটি।
ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি গ্রাফিকের বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি। শিরোনামে লেখা ছিল, ‘হরমুজে তেল পরিবহনের পরিমাণ আবার আগের অবস্থায় ফিরেছে!’ গ্রাফিকটিতে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু জলপথটি দেখানো হয়। দাবি করা হয়, তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে দিনে ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের আগে এই পরিমাণ ছিল দিনে ২ কোটি ব্যারেল। এরপর তেহরানের তেল-রাজস্বের দিকে নজর দেন ট্রাম্প। তিনি একটি গ্রাফিক শেয়ার করেন, যার শিরোনাম ছিল, ‘ইরানের তেল রপ্তানি ধসে পড়ছে!’
ট্রাম্পের পোস্টগুলোয় ইরানের মুদ্রা রিয়ালও অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। একটি গ্রাফিকে লেখা ছিল, ‘ইরানে অতি-মুদ্রাস্ফীতি চলছে।’ সেখানে মার্কিন ডলারের তুলনায় রিয়ালের মূল্যের তীব্র পতন দেখানো হয়। সেখানে ১০ লাখ রিয়ালের ডলার-মূল্যের পতন তুলে ধরা হয়।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করেও একটি উসকানিমূলক গ্রাফিক শেয়ার করেন ট্রাম্প। ‘বিদায় বিদায়, খার্গ’ শিরোনামের ওই এআই-নির্মিত ছবিতে দেখা যায়, বিস্ফোরণ ও আগুনে ঘেরা একটি তেল পরিকাঠামোর দিকে এগিয়ে আসছে একটি যুদ্ধবিমান। ছবিটি দেখে দ্বীপটিতে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত বলেই মনে হতে পারে।
ইরানের অর্থনীতিতে খার্গের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ঐতিহাসিকভাবে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বড় অংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই পোস্ট-সিরিজ শেষ হয় ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আরও একটি ব্যাপক মন্তব্যের মাধ্যমে। দেশের মানচিত্রসহ শেষ গ্রাফিকে লেখা ছিল, ‘ইরান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে!’
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যের নাম ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রতিবেশী কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার আদেশে সই করার কয়েক দিন পরই ট্রাম্পের এই নতুন প্রস্তাব এলো। তবে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর শুরুতেই তার এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যটির গভর্নর মিশেল লুহান গ্রিশাম বলেছেন, ‘নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আলোচনারই সুযোগ নেই, যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হওয়ার আগে থেকেই এটি আমাদের নাম।’
উচ্চমুখী জ্বালানি মূল্যের মতো অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের নজর ঘোরাতে ট্রাম্প এই বিতর্ক তৈরি করছেন বলে অভিযোগ তোলেন গ্রিশাম। সব মিলিয়ে একের পর এক স্থান ও জলসীমার নাম বদলানোর প্রবণতা নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনায় রয়েছেন ট্রাম্প।






