ট্রাম্পের দখলের হুমকির মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডকে মোটা অঙ্কের সহায়তা ইইউর

গ্রিনল্যান্ডের নুক শহরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যালয় পরিদর্শন করছেন। ছবি : রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দ্বীপটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ইইউ।
পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের উন্নয়নে আগামী দুই বছরে ২৩২ মিলিয়ন ডলার (২০ কোটি ইউরো) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।
স্থানীয় সময় সোমবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক সফরে গিয়ে এই ঘোষণা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। একই সফরে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে একটি যৌথ ঘোষণায়ও স্বাক্ষর করেছে ইইউ।
ঘোষণায় ফন ডার লেয়েন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণের। অন্য কারও নয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ইইউর দেওয়া অর্থ সহায়তা গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো, টেকসই পর্যটন উন্নয়ন এবং আবাসন নির্মাণের মতো কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।
একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে ইইউর উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন ফন ডার লেয়েন।
এছাড়া ২০২৮ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ইইউর পরবর্তী বাজেটে গ্রিনল্যান্ডকে সরাসরি দেওয়া সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে ব্রাসেলস। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এ সময়ে প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো (৬১৬ মিলিয়ন ডলার) সহায়তা পেতে পারে গ্রিনল্যান্ড।
ফন ডার লেয়েনের সফরের সময়ই গ্রিনল্যান্ডে শুরু হয়েছে ন্যাটোর ‘আর্কটিক শিল্ড’ সামরিক মহড়া। এতে ন্যাটোর ১১টি দেশের প্রায় ৪০০ সেনা অংশ নিচ্ছেন। ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ মহড়া চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ইইউর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের ভাষ্য, সংকটের এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পাশে রয়েছে।
তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ইইউকে প্রয়োজন, আর ইইউরও গ্রিনল্যান্ডকে প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যের পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
এমনকি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি ট্রাম্প।
এর জেরে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেনমার্কসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য পাঠিয়ে মহড়া চালিয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বীপটির সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যসহ দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
পরে ফেব্রুয়ারিতে ন্যাটো আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছিলেন।
তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও ট্রাম্পের হুমকি এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে দ্বীপটির পাশে থাকার বার্তা আরও স্পষ্ট করলো ইইউ।
সূত্র : আল জাজিরা






