সাদমানকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় বাংলাদেশ

ছবি: মোশারফ হোসেন
পাঁচতারকা হোটেলের নরম বিছানায়ও বুধবারের রাতটা সাদমান ইসলামের একফোঁটা ঘুমও যে হয়নি, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে হোটেলে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশের এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটারকে। প্রায় দেড় বছর পর সেঞ্চুরির এত কাছে সাদমান, মাঝের এই সময়টায় সত্তর আর আশির ঘরে গিয়েও আউট হয়ে থামতে হয়েছে তাকে। সাদমান আর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তার প্রথম সেঞ্চুরির মধ্যে মাত্র ১ রানের পার্থক্য, আলোক স্বল্পতায় সেটাই যে বড় হয়ে গেল।
বাংলাদেশ প্রথম দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রানে।
সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। নানান ভূমিকায় দলের সঙ্গে জুড়ে থাকা সালাউদ্দিন এখন নিজেকে বলছেন ‘অতিথি চরিত্র’। তার কাছেই জানা গেল, সাদমানকে নিয়ে উৎকণ্ঠা দলের সবার ভেতরই, ‘আমরা পুরো দলই আসলে নার্ভাস। আমরা সবাই চাচ্ছিলাম সেঞ্চুরিটা হয়ে যাক। টেস্টে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা (২) আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এই ইনিংস তাকে পরে অনেক সহায়তা করবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯৯* রানের ইনিংস আর ২০২৫-এর এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২০ রানের ইনিংসের মধ্যে ৭৬, ৮০ ও ৭৮ রানের ইনিংস আছে সাদমানের, যার অন্তত এক-দুটিতে তিন অঙ্কে যেতেই পারতেন। ৫০ ছাড়ানো ইনিংসকে বড় করতে না পারার পেছনে সালাউদ্দিনের পর্যবেক্ষণ, ‘ও নিজেও হয়তো বুঝতে পেরেছে কোচদের সঙ্গে কথা বলে। ওর কনভারশন রেট বেশি না। ডমিনেটিং অনেক ৫০ করেও ইনিংস বড় করতে পারেনি। আমার মনে হয়, ও নিজেই সমাধান খুঁজে বের করেছে। আমি আশা করব, এই ইনিংস তাকে অনেক কিছু শেখাবে। পরে ১০০ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’
আলোক স্বল্পতায় ছোট হয়ে আসা দিন, তাওহীদ হৃদয়ের পেশির চোট আর বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটারের বিদায়। এই হচ্ছে ঢাকা টেস্টের সারসংক্ষেপ। মুশফিকুর রহিম আঙুলের চোটে বেঞ্চে। তবে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে যেভাবে পানি নিয়ে গেলেন মাঠে আর খেলার বিরতিতে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করলেন, তাতে মনে হচ্ছে সিলেটে তাকে কোনোভাবেই বেঞ্চে বসিয়ে রাখা যাবে না।
তানজিদ হাসান তামিম তার ব্যাটিংয়ের একটি প্যাটার্ন দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। একটি ভালো ইনিংসের পর কয়েকটি খারাপ ইনিংস, এরপর আবার ভালো। এখন খারাপের পর্বটা চলছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮৩ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১, এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৪৬। তারপর থেকেই খরা, আফগানদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১ রানে আউট হওয়ার পর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আউট ৭ রানে। অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে তাড়া করে ব্যাট চালিয়ে। মুমিনুল হক ধৈর্যশীল হিসেবেই পরিচিত, ৫০ বল খেলে ২৮ রান করার পর জোমেল ওয়ারিকানের বলে এগিয়ে এসে তুলে মারতে চাইলেন মিডঅফের ওপর দিয়ে। ধরা পড়ে গেলেন শামার জোসেফের হাতে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সুইপ করতে গিয়ে বলের ফ্লাইটে বিভ্রান্ত হয়েছেন, ব্যাট মিস করেছে বল। প্যাডে বল লাগার পর মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউতে বল ট্র্যাকিং দেখে টিভি আম্পায়ার দিয়েছেন আউটের সংকেত। ৪২ বলে ১৯ রানে তারও বিদায়। বাকি সময়টা সাদমান আর হৃদয় মিলেই খেলছিলেন। এরপর হৃদয়ের চোট, শুশ্রূষা আর আলোক স্বল্পতা শুধু অপেক্ষাই বাড়িয়েছে সাদমানের। সবকিছুর ফলাফল, ১ রানের অপেক্ষায় বিনিদ্র রজনী।



