হামলায় আহত
আলিফের চোখে কি ফিরবে আলো?

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলায় বাম চোখে গুরুতর আহত আলিফ চৌধুরীর দৃষ্টিশক্তি না-ও ফিরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
আলিফের অস্ত্রোপচার হয় আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত । পরে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী আহত চোখটির দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালে আলিফের সঙ্গে থাকা তার নিকটাত্মীয় ও এনসিপি নেতা তৌহিদ আহমেদ আগামীর সময়কে জানান, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকরা বলেছিলেন— চোখটির দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে অস্ত্রোপচারের পর তারা জানিয়েছেন, ব্যান্ডেজ খোলার পরই চোখটির অবস্থা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা মৌলভীবাজারে ফিরে যান। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার সময় আলিফ চৌধুরীর বাম চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়। প্রথমে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আলিফ চৌধুরী (১৯) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। সম্প্রতি তিনি জাতীয় যুবশক্তিতে যোগ দেন। জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান জাকি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কমিটিতেও আলিফের নাম রয়েছে।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে মনিরা শারমিন লেখেন, ‘আলিফকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলো। বন্ডে লেখা- বাম চোখে গুরুতর ইনজুরি, দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কা রয়েছে। অপারেশনে রাজি কিনা। তখনও সে জানত না দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কার কথা। জানার পর শুধু বলল, ‘কোথায় সই করতে হবে? দেন।’
এরপর আলিফ বলল, ‘আমি ভয় পাচ্ছি না। হাসনাত, আসিফ ভাই যারা দেখা করতে চাইছেন, অপারেশনের পর আসতে বলবেন, ভালোভাবে দেখতে চাই।’ ছেলেটার সাহস আমাকে মুগ্ধ করেছে। খোদা, চিকিৎসাবিজ্ঞান যেন ভুল প্রমাণিত হয়। তার দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি থাকুক’— যোগ করেন মনিরা শারমিন।






