এনসিপি
আসিফের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ‘অপচেষ্টা’ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের শুরুতেই কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা সংস্থাটির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা।
এনসিপি নেতারা বলেন, ‘দীর্ঘ সাত মাস দুদককে কমিশনারবিহীন ও কার্যত অকার্যকর রাখার পর সম্প্রতি যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তা অস্বচ্ছ ও রাজনৈতিক স্বার্থপ্রসূত।’
তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রণীত দুদক অধ্যাদেশ বাতিল করে আগের আইনি কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে কমিশনকে আবারও সরকারের প্রভাবাধীন করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। পরে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একই কর্মকর্তা ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ করেন।
দলের নেতাদের ভাষ্য, তদন্ত শুরুর পর্যায়েই সংবাদ সম্মেলনে একটি অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা এবং পরে তা সংশোধনের চেষ্টা দুদকের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অনুসন্ধান কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে।
এনসিপি বলছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা যখন জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় হচ্ছেন, তখন দুদককে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পুরনো প্রবণতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অতীতেও দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও সেসব বিষয়ে দুদকের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। অথচ আসিফ মাহমুদের মতো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কমিশনের বক্তব্যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে—এটি তাদের কাছে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ উদাহরণ।
এনসিপি বর্তমান দুদক কমিশন বাতিল করে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত না করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে এনসিপি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দুদককে কোনো রাজনৈতিক দলের ‘রক্ষাকবচ’ কিংবা বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।







